পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

এক টুকরো সিরাত ০১


বদরের প্রান্ত

বদর যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল, কুরাইশদের বানিজ্যিক কাফেলার আক্রমনের মাধ্যমে। তারই প্রতিশোধ নিতে , কুরাইশরা তাদের বড় বড় যোদ্ধা , অস্ত্র ,উট আর নর্তিকিদের নিয়ে হাজির হয়েছে। সংখ্যার তারা অনেক। অন্যদিকে মুসলিমরা মাত্র ৩১৩ জনের মত। রাসুল (স) দেখলেন , কুরাইশ ঢিলার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে। এই দেখে আল্লাহ্‌র রাসুল(সঃ) দুয়ার নিমগ্ন হলেন।
“হে আল্লাহ! এই কুরাইশরা এসেছে, তাদের সকল ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিকতা নিয়ে তোমার রসূলকে মিথ্যা প্রমাণ করতে। হে আল্লাহ্‌ তুমি যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূর্ন করো। হে আল্লাহ্‌ , প্রত্যুষ্যের তুমি তাদের কে ধংশ করো।'
রাসুল (সঃ) রাতের বেলায় তন্ময় বিভোর হয়ে এই দুয়া করতে লাগলেন। সেটা ছিলো জুময়ার রাত। ১৭ রামদান।  এক পর্যায়ে রাসুল (স) এর কাধ থেকে চাদর পড়ে গেলো। তিনি টের ও পেলেন না। আবু বকর (রা) তার পেছনেই ছিলেন। তিনি বললেন ,
"হে আল্লাহর রাসুল(স) আপনি আল্লাহ্‌ পাকের কাছে মিনতি-অনুনয় জানানোয় ক্ষান্ত হোন। তিনি আপনাকে যে প্রতিশ্রতি দিয়েছেন তা অবশ্যই পূর্ণ করবেন। "
সুবাহান'আল্লাহ আবু বকর (রা) আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) কে বলছেন হে রাসুল্লাহ আপনি নিজের উপর দয়া করুন । অবশ্যই আল্লাহ্‌ আপনাকে সাহায্য করবেন । তিনি যে ওয়াদা দিয়েছেন তা অবশ্যই পুরন করবেন ।

এবার বদর থেকে একটু পিছিয়ে যাই ,আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) এর  থেকে  মক্কার একটি ঘটনা শুনি -

রাসুল (সঃ) কাবা ঘরের পাশে সলাত আদায় করছিলেন।
আবু জাহেল তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে সেখানে বসা ছিলেন । এমন সময় একজন অন্যজনকে বললঃ কে আছো অমুকের উটের নাড়িভুড়ি এনে মোহাম্মদ যখন সেজদায় যাবে, তখন তার পিঠে চাপিয়ে দিতে পারবে?

এরপর ওকবা ইবনে আবু মুঈত উটের নাড়িভুড়ি এনে অপেক্ষা করতে লাগলো। নবী কারীম (সাঃ) সেজদায় যাওয়ার পর সেই নাড়িভুড়ি তাঁর উভয় কাঁধের উপর ঝুলিয়ে দিল। আমি সব কিছু দেখছিলাম, কিন্ত কিছু বলতে পারছিলাম না। কি যে ভালো হত হায় যদি আমার মধ্যে তাঁকে রক্ষা করার শক্তি থাকতো।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেনঃ এরপর দৃর্বৃত্তরা হাসতে হাসেত একজন আরেকজনের গায়ে ঢলে পরছিলো। এদিকে রাসুল (সাঃ) সেজদায় পরে রইলেন মাথা তুললেন না। হযরত ফাতেমা (রা) খবর পেয়ে ছুটে এসে নাড়িভুড়ি সরিয়ে ফেললেন। এরপর রাসুলে আকরাম (সাঃ) সেজদা হতে মাথা উঠালেন। এরপর তিনবার বললেনঃ“আল্লাহুম্মা আলাইকা বে-কোরাইশ” অর্থ্যাৎ হে আল্লাহ তাআ’লা, কোরাইশদের দায়িত্ব তোমার উপর।

এরপর রাসুলে আকরাম (সাঃ) নাম উল্লেখ করে বদদোয়া করলেন, হে আল্লাহ আবু জাহেলকে পাকড়াও করো, ওতবা ইবনে রবিয়া, শায়রা ইবনে রাবিয়া, ওলিদ ইবনে ওতবা, উমাইয়া ইবনে খালফ, এবং ওকবাইবনে আবু মুঈতকে পাকড়াও করো। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরো কয়েকজনের নাম বলেছিলেন কিন্ত হাদিস বর্ণনাকারী সেসব নাম ভুলে গেছেন।

আবার ফিরে যাই বদরের প্রান্তে যুদ্ধ তখন শেষ হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ্‌ ইচ্ছায় মুসলিমরা জিহাদের মাধ্যমে জয় লাভ করেছে। কুরাইশদের লাশ গুলো এদিকে সেদিক পড়ে আছে ।  আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) দেখতে পেলেন কিছু লাশ বদরের কুয়োয় কাছে পড়ে আছে। সেই লাশ গুলো ছিলো সেই সব ব্যাক্তিদের যাদের নাম ধরে আল্লাহ্‌র রাসুল(সঃ) বদ-দোয়া করেছিলেন।

Collected from Naseeha Facebook Group

1 টি মন্তব্য: