বিয়ের পিঁড়িতে বসা মেয়ের প্রতি মায়ের উপদেশ


ইসলাম-পূর্ব আরবে, একজন মা তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়ের উদ্দেশ্যে নিচের উপদেশগুলো দিয়েছিলেন। যাতে এক পরিপক্ক এবং গভীর অভিজ্ঞতাবোধ ফুটে উঠেছে। স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য স্ত্রীর করনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও খুব অল্প কথায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

কিন্দাহ(২৭৯) এর রাজা, আমর ইবনু হিজর-এর সাথে উম্মু আয়াস বিনত 'আউফের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ে অনুষ্ঠানের অল্প কিছুক্ষণ আগে তার মা উমামাহ বিনত আল - হারিস তাকে একপাশে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বলেন: "মা! যারা পুণ্যবতী ও উত্তম আচরনের অধিকারিণী, এই উপদেশ যদি তাদেরকে না দিলেও চলত, তা হলে তোমার জন্যও এই উপদেশের প্রয়োজন হতনা। তবে উপদেশ ভুলোমনাদের জন্য স্মরণীকা আর জ্ঞানীদের জন্য দিকনির্দেশনা। এছাড়া বাবা -মা'র বিত্ত-বৈভব কিংবা মেয়ের প্রতি তাদের আদর - স্নেহ থাকার কারনেই যদি কোন নারী বিয়ে এড়াতে পারত, তা হলে তোমার বিয়ের একেবারেই কোন প্রয়োজন ছিল না। 

কিন্তু পুরুষের জন্যই নারীর সৃষ্টি, আর নারীর জন্যই পুরুষ। তুমি তোমার বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছ - যেখানে তুমি জন্মেছিলে, যে বাসস্থানে তুমি প্রতিপালিত হয়েছ। যাচ্ছ এমন পরিবেশে - যার সঙ্গে তুমি মোটেও পরিচিত নও। মিলিত হবে এমন সঙ্গীদের সাথে - যাদের তুমি চেননা। স্বামীগৃহে এখন থেকে স্বামী হবে তোমার কর্তা ও প্রহরী। অতএব তুমি তার দাসী হয়ে যাও, সে তোমার দাস হয়ে যাবে। আনুগত্যে তুমি তার জন্য মাটি হয়ে যাও। সে আকাশ হয়ে তোমাকে আগলে রাখবে। তার জন্য তুমি নিজের ভেতরে দশটি বৈশিষ্ট্যকে ধারন করো। এগুলোই তোমার জন্য অমূল্য সঞ্চিত ধন হয়ে যাবে:

★ সন্তুষ্ট চিত্তে এবং পরিতৃপ্ত অন্তরে তুমি নিজেকে তার হাতে তুলে দেবে। তোমাকে সে যা দেবে, তুমি তাতেই তুষ্ট থেকো।

★তুমি হবে তার কথার মনোযোগী শ্রোতা এবং তার আদেশের আনুগত্যকারিণী।

★তার নজর পড়ে এমন জায়গাগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে তার দৃষ্টি যেন তোমার এমন কিছুর উপর না পরে, যা তার চোখে দৃষ্টিকটু।

★তার নাকে লাগার স্থানগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে , সে যেন তোমার কাছ থেকে সুবাস ছাড়া কোন গন্ধ না পায়।

★তার খাবার সময়ের ব্যাপারে যত্নশীল থাকবে। কারন ক্ষুধার তীব্রতায় ক্রোধের জন্ম হয়।

★তার ঘুমের সময়ের ব্যেপারে যত্নশীল থাকবে।কারন, ঘুমের ব্যঘাত মনে বিরক্তির জন্ম দেয়।

★উত্তম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে তার অর্থ- সম্পদকে নিরাপদ রাখবে।

★সুপরিকল্পনার মাধ্যমে তার সন্তান- সন্ততি এবং কাজের লোকদের প্রতি যত্নবান থাকবে।

★তার কোন নির্দেশ অমান্য করবে না। কারন, তার নির্দেশ অমান্য করাই হলো তার মনকে চটিয়ে দেওয়া।

★ তার কোনো গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করে দেবেনা, যদি তা করো তাহলে তুমি তার প্রতিশোধ থেকে নিরাপদ থাকবে না।

★তার বিষন্নতার সময় আনন্দ প্রকাশ করবেনা। আবার তার আনন্দের সময় বিষন্নতা প্রকাশ করবেনা। কারন, এতে তার মনে ঘৃনার জন্ম হবে। মনে রাখবে, তুমি তাকে যত বেশি খুশি করবে, সে তোমাকে ততবেশি ভালোবাসবে। আরও মনে রাখবে, তাকে দিয়ে তোমার মনোবাসনা পূর্ন হবেনা, যতক্ষন পর্যন্ত তুমি নিজের পছন্দ - অপছন্দের ওপর তার পছন্দ - অপছন্দকে প্রাধান্য না দেবে।

ইসলামে নারী এবং পুরুষের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা। তুলনা মূলকভাবে বেশি কষ্টসাধ্য বাহ্যিক দায়িত্ব গুলো পুরুষের উপর অর্পিত। আবার সংসারের অভ্যন্তরীন কাজকর্ম থেকে শুরু করে সমাজের ভবিষ্যৎ কর্নধার সন্তান- সন্ততিদের বড় করে তোলার খেত্রে নারীর ভূমিকা পুরুষের চেয়ে বেশি। কাজেই, স্বামীর চাইতে স্ত্রীকেই সন্তান- সন্ততির পেছনে অধিক সময় দিতে হবে। পরিবার যদি আল্লাহর নির্দেশিত হুকুম - আহকামের ভিত্তির উপর গড়ে না উঠে, তা হলে নিশ্চতভাবে সংসারে দুঃখ - দুর্দশা, অকল্যান, ঘৃণা, মতবিরোধ আর নৈরাজ্য বিরাজ করবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা' আলা ওই দাম্পত্য -জীবনকে বরকতময় করে দেবেন, যেখানে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ে আল্লাহর নির্দেশিত পথে ও তার আনুগত্যে জীবন যাপন করে এবং পরস্পরের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব - কর্তব্যগুলো সঠিকভাবে পালন করে চলে।

 প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উচিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা এবং তাঁর রাসূল(স:) এর আনুগত্য করার মাধ্যমে একজন আদর্শ এবং উত্তম স্বামী- স্ত্রীর বৈশিষ্ঠগুলো অর্জনের চেষ্টা করা। আল্লাহ এবং তার রাসূল (স:) এর আনুগত্যই হলো জান্নাতে যাওয়ার সুনিশ্চিত পথ। এই বৈশিষ্টগুলো অর্জন ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নর-নারীর দাম্পত্য জীবন হবে সুখময়। প্রতিটি মুসলিম নরনারীর প্রতি সর্বোত্তম উপদেশ হলো, তারা যেন অমুসলিমদের জীবনাদর্শকে বর্জন করে চলে। অমুসলিমদের পরিবারগুলো ধর্মীয় অনুশাসনের বদলে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। নারী এবং পুরুষের মাঝে যে মৌলিক পার্থক্যগুলো আছে সে গুলোকে তারা গ্রাহ্য না করে সমস্ত ক্ষেত্রেই তারা পরস্পরকে সমান বিবেচনা করে। পরিণামে তারা উপহার পেয়েছে অসংখ্য ভেঙে যাওয়া পরিবার আর বিপর্যস্ত পারিবারিক সম্পর্ক।

1 মন্তব্যসমূহ

  1. এই লেখাটি পড়ে জীবন যাপন করলে একজন মুসলিম মেয়ের জন্য আর কিছু লাগে না, তার জান্নাত পাওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন