পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

বিভিন্ন নেক আমল বিষয়ক

● আবু উমামাহ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন মাজীদ পাঠ কর। কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে। - [মুসলিম ৮০৪; আহমাদ ২১৬৪২]

● উসমান ইবনে আফফান (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।" - [সহীহুল বুখারী ৫০২৭; তিরমিযী ২৯০৭]

● আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা:) কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন, "দুজনের ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা সিদ্ধ - (১) যাকে আল্লাহ্ কুরআন (বুঝার জ্ঞান) দান করেছেন, সুতরাং সে তা দিবা-রাত্রি পড়ে ও আমল করে। (২) যাকে আল্লাহ্ তা'আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে (আল্লাহর পথে) দিন-রাত ব্যয় করে।" - [সহীহুল বুখারী ৫০২৫; মুসলিম ৮১৫]

● আবু সাইদ রাফে’ ইবনে মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, “ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি যে আমাকে বললেন তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সূরা ফাতেহা)। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানি (অর্থাৎ নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত ) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে”। -[সহীহুল বুখারি ৪৪৭৪]

● আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, "সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রান আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।

অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাগনকে বললেন, 'তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তারা বলে উঠলেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ ( অর্থাৎ কেও পারবে না।) তিনি বললেন, “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ” (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশের কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) -[সহীহুল বুখারি ৫০১৫]

● আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ক ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’ টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন’। -[তিরমিজী ২০৫৮]

● আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। -[আবূ দাউদ ১৪০০]

● আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, ''একদা জিবরাইল (আঃ) নবী(সাঃ)-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরাইল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয় নাই। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা আবতির্ন হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে,ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি। সুতরাং তিনি এসে নবী (সাঃ)-কে সালাম জানিয়ে বললেন, ‘‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হই নাই। (সে দুটি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্কারার শেষ আয়াতসমূহ । ওর মধ্যে হতে যে বর্নটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।’’ [মুসলিম ৮০৬]

● উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান,মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরাআন) এর ভিতর তমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?’ আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসী’। সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপর মেরে বললেন, ‘আবুল মুনযির! তমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক’। [মুসলিম ৮১০]

● আবূ দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, '‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্ত করবে,সে দাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। [মুসলিম ৮০৯]

● মুআবিয়াহ ইবনে সুফয়ান (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সা:) কে এ কথা বলতে শুনেছি, "কিয়ামতের দিনে সমস্ত লোকের চাইতে মুআযযিনদের গর্দান লম্বা হবে।" -[সহীহুল বুখারী ৬০৯]

● আনাস (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "আযান ও ইকামতের মধ্য সময়ে কৃত প্রার্থনা রদ করা হয় না।" -[ মুসলিম ৬৬৮; আহমদ ১৩৮৬৩]

● জাবের (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ ঠিক প্রবাহিত নদীর ন্যায়, যা তোমাদের কোন ব্যক্তির দরজার পাশে থাকে; যাতে সে প্রত্যহ পাঁচবার করে গোসল করে থাকে।" -[মুসলিম ২৩৩; তিরমিযী ২১৪]

● আবু মূসা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা (ফজর ও আসর) সালাত পড়ে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" -[সহীহুল বুখারী ৫৭৪; মুসলিম ৬৩৫]

● আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, নবী (সা:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে ওযু করে আল্লাহর কোন ঘরের দিকে এই উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত কোন ফরয ইবাদাত (সালাত) আদায় করবে, তাহলে তার কৃত প্রতিটি দুই পদক্ষেপের মধ্যে একটিতে একটি করে গুনাহ মিটাবে এবং অপরটিতে একটি করে মর্যাদা উন্নত করবে।" -[মুসলিম ৬৬৬]

● ইবনে উমার (রা:) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেন, "একাকী সালাত অপেক্ষা জামায়াতের সালাত সাতাশ গুণ উত্তম।" -[সহীহুল বুখারী ৬০০; মুসলিম ৬৪০]

● আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেনঃ "ফিরিশতাগণ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য দোয়া করেন, যতক্ষণ সে সেই স্থানে অবস্থান করেন, যেখানে সে সালাত আদায় করেছে, যতক্ষণ না তার ওযু নষ্ট হয়েছে। তারা বলেন, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও, হে আল্লাহ! তার প্রতি সদয় হও।" -[বুখারীঃ ৪৪৫; মুসলিমঃ ৬৪৯]

● আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত । আযানের জবাবে- মুয়াযযিন যা বলবেন শ্রোতা সেসব বাক্যই বলবেন। তবে 'হায়ইয়া আলাস সালাহ, হায়ইয়া আলাল ফালাহ' দুটির জবাবে বলবে- 'লা হাওলা আলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। -[মুসলিমঃ ৩৮৫; বুলুগুল মারামঃ ১৯৪]

● উম্মে হাবীবাহ রামলা বিনতে আবু সূফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, "যে কোন মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্য প্রত্যহ ফরয সালাত ছাড়া বারো রাকাত সুন্নাত সালাত পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন।" -[মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, রিয়াদুস স্বা-লিহীনঃ ১১০৪]

● আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ পুরুষদের উত্তম সারি (কাতার) হলো প্রথম সারি, আর নিকৃষ্ট সারি হচ্ছে পিছনের সারি এবং মেয়েদের সর্বোত্তম কাতার শেষেরটি আর নিকৃষ্ট হচ্ছে প্রথমটি । -[মুসলিমঃ ৪৫৬; তিরমিযীঃ ২২৪; নাসায়ীঃ ৮২০]

● আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে জিজ্ঞেস করলাম, সর্বোত্তম আমল কী? তিনি বললেন, যথা সময়ে সালাত আদায় করা। আমি বললাম, তারপর কী? তিনি বললেন, বাবা-মা'র সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমি বললাম, তারপর কী? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। -[সহীহুল বুখারী ৮; মুসলিম ১৬]

কোন মন্তব্য নেই