পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

গোসল করার নিয়ম

পবিত্রতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ ও চুড়ান্ত উপায় হলো গোসল করা। তবে এই গোসলেরও রয়েছে কিছু সহজ নিয়মকানুন:

নাপাকীর গোসল করতে হলে গোসলের নিয়ত করে মুসলিম প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুবে। অতঃপর বাম হাতের উপর পানি ঢেলে দেহের নাপাকী ধুয়ে ফেলবে । তারপর বাম হাতকে মাটি অথবা সাবান দ্বারা ধুয়ে নামাজের জন্য ওযু করার মতো পূর্ণ ওযু করবে। ওযুর পর ৩ বার মাথায় পানি ঢেলে ভালো করে চুলগুলো ধুবে, যাতে সমস্ত চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর সারা দেহে ৩ বার পানি ঢেলে ভালোরূপে ধুয়ে নেবে। অবশ্য গোসলের জায়গা পরিষ্কার না হলে পা দুটি গোসল শেষে ধুয়ে নেবে। (বুখারী, মুসলিম)

মহিলাদের গোসলও পুরুষদের অনুরূপ। অবশ্য মহিলাদের মাথার চুলে বেণী বাঁধা থাকলে তা খোলা জরুরী নয়। তবে ৩ বার পানি নিয়ে চুলের গোড়া অবশ্য ধুয়ে নিতে হবে। (বুখারী)

নখে নেইলপালিশ বা কোন প্রকার পুরু পেইন্ট থাকলে তা তুলে না ফেলা পর্যন্ত গোসল হবে না। পক্ষান্তরে মেহেদী লেগে থাকা অবস্থায় গোসল হয়ে যাবে। কপালে টিপ (!) থাকলে তা ছাড়িয়ে ফেলে (কপাল) ধুতে হবে। নচেৎ গোসল হবে না।

বীর্যপাত বা সঙ্গম-জনিত নাপাকী ও মাসিকের গোসল, অথবা মাসিক ও ঈদ, অথবা বীর্যপাত বা সঙ্গম জনিত নাপাকী ও জুমু'আ বা ঈদের গোসলের নিয়ত হলে একবারই যথেষ্ট। পৃথক পৃথক গোসলের দরকার নেই। (ফিকহুস সুন্নাহ)

গোসলের পর নামাজের জন্য আর পৃথক ওযুর প্রয়োজন নেই। গোসলের পর ওযু ভাঙ্গার কোন কাজ না করলে গোসলের ওযুতেই নামাজ হয়ে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)

রোগ জনিত কারণে যদি কারো লাগাতার বীর্য, মযী, স্রাব বা ইস্তিহাযার খুন ঝরে তবে তার জন্য গোসল ফরয নয়; প্রত্যেক নামাজের জন্য ওযুই যথেষ্ট। এ সকল অবস্থায় নামাজ মাফ নয়। (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী)


বই: সালাতে মুবাশশির
লেখক: আব্দুল হামিদ ফাইযী

কোন মন্তব্য নেই