পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)- হানাফী ফিক্বহের প্রধান

মহান বিশেষজ্ঞ ইমাম আবু হানীফাহ্‌ (রহ.) এর নামানুসারে হ়ানাফি মায়হাবের নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর আসল নাম ছিল নু‘মান ইব্‌ন সাবিত। ৮০ হিজরিতে ইরাকের কুফাহ নগরীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত একজন রেশম ব্যবসায়ী। খুলাফায়ে রাশেদার শাসনামলেই তাঁর পিতা ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইমাম আবু হানীফাহ তাঁর প্রাথমিক অধ্যয়ন শুরু করেন ‘ইল্‌ম আল-কালাম নামক র্দশন ও আধুনিক ভাষাবিদ্যা শাস্ত্রে। কিন্তু, এর বিভিন্ন শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জনের পর তা ছেড়ে দিয়ে তিনি ফিক়্হ ও হাদীস শাস্ত্রের গভীর অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন।

তিনি হাম্মাদ ইব্‌ন যাইদকে তাঁর প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেছে নেন। তিনি ছিলেন ঐ সময়ে হাদীসের শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের অন্যতম। তাঁর তত্ত্বাবধানে ইমাম আবু হানীফাহ আঠারো বছর শিক্ষা লাভ করেন। এ সময়ে তিনি নিজেই শিক্ষাদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে হিজরি ১২৪ সালে (৭৪২ সাল) হাম্মাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর ছাত্র হিসেবেই থেকে যান। তারপর চল্লিশ বছর বয়সে আবু হ়ানীফাহ তাঁর শিক্ষকের স্থান লাভ করেন এবং কুফার শ্রেষ্ঠতম বিশেষজ্ঞে পরিণত হন।

তাঁর প্রজ্ঞা ও বুৎপত্তির কারণে তিনি তৎকালীন উমাইয়া শাসকদের কাছে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তারা তাকে কুফার প্রধান বিচারকের আসন গ্রহণ করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। আর এ কারণে কুফার আমীর ইয়াযীদ ইব্‌ন ‘উমারের নির্দেশে তাঁর উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। তবুও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

একইভাবে ‘আব্বাসী শাসনামলেও সরকারি পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলে তিনি তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। এ কারণে খলীফা আবু জা‘ফার আল-মানস়ূর (শাসনকাল ১৩৬–১৫৮ হিজরি; ৭৫৪–৭৭৫ সাল) এর আদেশে তাঁকে বাগদাদে কারারুদ্ধ করা হয়। ১৫০ হিজরিতে (৭৬৭ সাল) ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি কারাগারেই ছিলেন।


বইঃ মাযহাব: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত
লেখকঃ ড. বিলাল ফিলিপস
প্রকাশনায়ঃ সিয়ান পাবলিকেশন

কোন মন্তব্য নেই