পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

বিদআতের পরিচয় ও পরিণাম

বিদা'ত:
বিদা'ত শব্দের অর্থ নবোদ্ভাবন বা নতুন সৃষ্টি। শরীয়াতের পরিভাষায় বিদা'তের পরিচয় হলো- দীনদারী কিংবা আমল ও ইবাদাতের নামে নব উদ্ভাবিত এমন সব কাজ, যা রসূল (সা:) কোন সময় করেন নি এবং যার কোন নমুনা ছাহাবা কিংবা তাবেঈদের যুগেও পাওয়া যায় নি। বিদা'ত কয়েকটি সহজ পরিচয় হলো,

  • বিদা'ত সুন্নাতের চেয়ে অতিরিক্ত
  • সুন্নাতের একরূপ, বিদা'তের বহুরূপ
  • সুন্নাত আল্লাহর রসূল (সা:) থেকে অনুসৃত, আর বিদা'ত ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক উদ্ভাবিত


তাই বিদা'তের ব্যাপারে রসূল (সা:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করলো যা মূলত তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা অগ্রাহ্য। -(বুখারী: ২৫০১; মুসলিম: ৪৩৪৩)

তিনি (সা:) আরো বলেন, "সাবধান! তোমরা (আমল ও ইবাদাতে) নতুন কিছু করা থেকে বেঁচে থাকবে । কেননা এতে প্রত্যেক নতুন কিছু করার নামই বিদা'ত; আর প্রত্যেক বিদা'তই গোমরাহী (তথা ভ্রাণ্ত)।


বিদা'তের পরিণাম:
সাহল ইবনে সা‘দ, আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘আমি তোমাদের আগে হাওযে গিয়ে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব। যে আমার কাছে যাবে সে (হাউয থেকে) পান করবে, আর যে পান করবে সে কখনো পিপাসার্ত হবে না। অনেক মানুষ আমার কাছে (হাওযে পানি পানের জন্য) আসবে, যাদেরকে আমি চিনব, তারাও আমাকে চিনবে, তবে তাদের এবং আমার মাঝে বাঁধা সৃষ্টি করা হবে, (আমার কাছে আসতে দেওয়া হবে না) আমি বলব এরা আমার উম্মত। তখন (প্রতি উত্তরে) বলা হবে : আপনি জানেন না, এরা আপনার পরে কী সব নব উদ্ভাবন করেছিল। একথা শুনে আমি বলব : যারা আমার পর পরিবর্তন করেছেন তারা দূর হয়ে যাক, তারা দূর হয়ে যাক!’’ -(হীহুল বুখারী, কিতাবুর রিক্বাক্ব, হাউয অনুচ্ছেদ, নং: ৬২১২, কিতাবুল-ফিতান, নং: ৬৬৪৩)


তিনি (সা:) আরো বলেন- "যে ব্যক্তি বিদা'তকারীকে সম্মান করল সে যেন ইসলামকে ধ্বংস করার উপর সাহায্য করলো (বায়হাকী)


পরিশেষে আরো একটি সতর্কবার্তা -
‘‘একদিন ফজরের সালাতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী নসীহত করলেন, এতে সবার চোখে অশ্রু বয়ে গেল, হৃদয়গুলো ভীত শঙ্কিত হলো। এক লোক বলে উঠল : নিশ্চয় এটি বিদায়ী নসীহত, অতএব আপনি আমাদের থেকে কী অঙ্গিকার নিবেন হে আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি অর্জনের ওসিয়্যত (অঙ্গিকার, গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ) করছি, নেতার কথা মান্য ও তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দিচ্ছি, যদিও সে হাবশী দাস হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যে জীবিত থাকবে সে অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। আর তোমরা সব নব অবিস্কৃত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা এগুলো পথভ্রষ্টতা। তোমাদের মধ্যে যে এই অবস্থা পাবে সে যেন আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাত আকড়ে ধরে। তোমরা সুন্নাতকে মাড়ির দাঁত দিয়ে আকড়ে ধর।’’ -(তিরমিযী, সুনান, সুন্নাতকে আকড়ে ধরা এবং বিদ‘আত পরিহার করা অনুচ্ছেদ, নং:২৬৭৬, হাদীস সহীহ)

বিদ‘আত কাকে বলে বুঝতে এবং তা থেকে সতর্ক থাকতে সুন্নাত প্রেমিকদের জন্য এই একটি হাদীসই যথেষ্ট। আল্লাহর রহমতে সর্বদা একদল এর উপর ছিলেন বলেই সুন্নাত সংরক্ষিত হয়ে আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে। জান্নাতে পৌঁছতে, তাযকিয়ার চূড়ান্তে উপনীত হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতই আমাদের জন্য যথেষ্ট। সুন্নাতের বাইরে কোনো কিছুকে যে কোনো ক্ষেত্রে মনে স্থান দেওয়া মানেই গোমরাহীর পথ খুলে দেওয়া, যা উপরোক্ত হাদীসে স্পষ্ট। এভাবে বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনের মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধন করার কঠিন পরিণতি সম্পর্কে আমাদেরকে সংবাদ দিয়ে গেছেন।

কোন মন্তব্য নেই