পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইমাম শাফি'ই (রহ:) : শাফি'ই ফিক্বহের প্রধান

মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস শাফি'ই রহিমাহুল্লাহর নামানুসারে শাফি'ই মাযহাবের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ১৫০ হিজরীতে তদানীন্তন শাম এলাকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের গাজা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে ইমাম মালিকের তত্ত্বাবধানে ফিকহ্ ও হাদীস অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে তিনি বাল্য বয়সেই মাদীনাহ গমন করেন। তিনি ইমাম মালিকের আল মুয়াত্তা এমনভাবে মুখস্থ করেছিলেন যে, তা স্মৃতি থেকে হুবহু পাঠ করে শুনিয়ে দিতে পারতেন।

১৭৯ হিজরিতে ইমাম মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত ইমাম শাফি'ই তাঁর তত্ত্বাবধানেই থেকে যান। তারপর তিনি ইয়েমেনে গিয়ে শিক্ষাদান শুরু করেন। ১৮৯ হিজরিতে তাঁর বিরুদ্ধে শী'আহ বিশ্বাসের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ দেওয়া হয়। তখন তাঁকে ইয়েমেন থেকে গ্রেফতার করে ইরাকে 'আব্বাসি খলীফা হারুন আর রশীদের (শাসনকাল ১৭০-১৯৩ হিজরি) কাছে হাজির করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে তিনি তাঁর আকীদা-বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করতে সক্ষম হন। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এরপর ইমাম শাফি'ই ইরাকেই থেকে যান এবং আবু হানিফার বিখ্যাত ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ ইবন আল হাসানের তত্ত্বাবধানে কিছুদিন অধ্যয়ন করেন । পরবর্তীকালে ইমাম লাইসের নিকট থেকে জ্ঞানর্জনের লক্ষ্যে তিনি মিশরে গমন করেন । সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন ইমাম আল লাইস ইতিমধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন । পরে অবশ্য তিনি আল লাইসের ছাত্রদের নিকট থেকে তাঁর মাযহাব অধ্যয়ন করতে সক্ষম হন । ইমাম শাফি'ই বাকি জীবন মিশরেই কাটিয়ে দিন । তিনি ২০৪ হিজরিতে খলীফা আল মামুনের (শাসনকাল ১৯৭- ২১৭ হিজরি) শাসনামলে ইন্তেকাল করেন ।

শাফি'ই মাযহাবের অনুসারীবৃন্দের বেশিরভাগই বসবাস করেন মিশর, দক্ষিণ আরব, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, পূর্ব আফ্রিকাতে ।


_________________________
বই: মাযহাব (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ)
লেখক: ড: আবু আমিনাহ্ বিলাল ফিলিপ্স

কোন মন্তব্য নেই