পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

'ইসলাম' হচ্ছে জান্নাতে যাওয়ার ও জাহান্নাম হতে মুক্তির রোডম্যাপ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। সালাত ও দুরুদ বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ (সাঃ) এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাহাবীদের উপর।

''কেন আমি ইসলামকে ভালোবাসি....'' এ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সামান্য কিছু লেখার প্রয়াস করছি মাত্র, আল্লাহ্‌ যেন তৌফিক দেন।

ইসলাম সর্বশেষ ইলাহী রিসালাত যা আল্লাহ্‌ তাঁর শেষ নবী ও রাসূল (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ করেছেন। এটাই সত্য ও সঠিক দ্বীন ইসলাম যা আল্লাহ্‌র নিকট একমাত্র মনোনীত ব্যবস্থা। আর এই দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মানার ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য এ বিষয়টি সহজ ও সাধ্যের মধ্যে রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ!

আল্লাহ বলেনঃ
“আল্লাহ কারও উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেননা।” (সূরা বাকারাঃ ২৮৬)
“আল্লাহ দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিন বিষয় চাপিয়ে দেননি।” (সূরা হজ্জঃ ৭৮)
“তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী।” (সূরা তাগাবুনঃ ১৬)

অর্থাৎ দ্বীন ইসলামের মধ্যে আল্লাহ্‌ এমন কোন কষ্টসাধ্য সিস্টেম রাখেননি যাতে বান্দা হিসেবে আমরা তাঁর আদেশ পালনে অসমর্থ হই! তিনিই আমাদের রব, যিনি পরিপূর্ণ গাইডলাইন তথা দ্বীন ইসলাম উপহার দিয়ে আমাদের প্রতি দয়া করেছেন যাতে আমরা দুনিয়ার চাকচিক্যের ভীড়ে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ থেকে বিচ্যুত না হই। একজন মানুষের জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সুন্দর সুন্দর বিধান প্রদান করেছে। আর, বান্দা হিসেবে আমরাও দ্বীন ইসলাম পেয়ে আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞ!

আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহ্‌কে নিজের রব, ইসলামকে নিজের দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) কে রাসূল হিসেবে মেনে নিয়েছে সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে। [সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৯]

রাসূল (সাঃ) এর আরেকটি হাদিস থেকে জানতে পারি যে- প্রতিটি শিশু ফিতরাতের (ইসলামের) উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার বাবা মা তাকে ইহুদী, খৃষ্টান বানায় কিংবা অগ্নিপূজক বানায়। প্রতিটি শিশুর অন্তর ঈমান ও বিশ্বাসের উৎকৃষ্ট বীজতলা। বিশ্বাসের চাষাবাদের উপযুক্ত করেই আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন প্রতিটি মানব হৃদয়কে। এরপর পিতামাতা ও পরিবেশ হয়তো এই স্বভাব-যোগ্যতাকে বিকশিত করে কিংবা বিলুপ্ত করে। তাই বলা যায় যে দ্বীন ইসলামকে ভালোবাসা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। দ্বীন ইসলামের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেকার ইতিহাস সম্পর্কে, আমরা কোথায় ছিলাম আর মারা যাবার পর কোথায় যাবো, পুনরুত্থান দিবস বা বিচার দিবসের হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে। দুনিয়ার বস্তুবাদী বিজ্ঞান যেখানে এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে পুরোপুরি অসমর্থ। ইসলামের মধ্যেই রয়েছে একজন মু’মিন বান্দার ঈমানের পরিশুদ্ধতা, মানসিক প্রশান্তির লাভের উপায় এবং সর্বোপরি ইহকালীন জীবনে কল্যাণ ও পরিকালীন জীবনে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম।

আল্লাহ বলেনঃ “কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না।” (সূরা আল ইমরানঃ ৮৫)
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।” (সূরা মায়িদাঃ ৩)

যেখানে আল্লাহ্‌ নিজেই ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিয়েছেন সেখানে আমরা কি করে ইসলামকে না ভালোবেসে থাকতে পারি?

কালো চামড়ার কোন ভাই যখন সাদা চামড়ার আরেকজন ভাইয়ের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মসজিদে সালাত আদায় করে অথবা রাস্তায় দেখা হলে দু’জন মুসলিম ভাই যখন হাসিমুখে সালাম বিনিময় করে তখন তারা ইসলামকে ভালোবেসেই করে! এমনকি পবিত্র হজ্জের সময় আরাফাতের ময়দানে আল্লাহ্‌র মেহমানগণ ইসলামকে ভালোবেসেই বিভিন্ন বর্ণ, গোত্র, ভাষা, দেশের পার্থক্যকে ভুলে গিয়ে পরস্পরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতঃ সবাই একসাথে পাশাপাশি অবস্থান করেন। এ যেন মুসলিম ভ্রাতৃত্ব (Muslim Brotherhood) এর বহিঃপ্রকাশ!

মানুষের জীবনে ইসলামের কোন বিকল্প নেই। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে যেমন ঠিক সেই রকম ব্যবস্থাই ইসলামে রয়েছে -এর বিপরীত কিছু ইসলামে নেই। মানব জীবন দ্বীন মোতাবেক চলতে এটাই কাম্য। পৃথিবীতে কোন সমস্যাই থাকবে না যদি মানুষ ইসলামের উপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। এটা তো ঠিক দুনিয়াতে আমরা যেটাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি সেটার উপরই কায়েম থাকি অথবা সেটাকেই আঁকড়ে ধরে রাখি। যেহেতু আমরা ইসলামকে সবচেয়ে ভালোবাসি, তাই আমাদের উচিত দ্বীন ইসলামের উপর কায়েম থাকা। সুতরাং আমরা বলতেই পারি যে, ইসলাম হচ্ছে জান্নাতে যাওয়ার ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির রোডম্যাপ!

মহান আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সবাইকে মুসলিম হিসেবে কবুল করেন, আমীন!
______
লিখেছেন: ইবরাহীম খলিল (ইঞ্জিনিয়ার)

কোন মন্তব্য নেই