পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

একজন সাহসী ব্যক্তির জীবন থেকে

মক্কায় যাঁরা মুশরিকদের অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন, রাসূল [সাঃ]. তাদেরকে মদীনায় হিজরাতের নির্দেশ দিলেন। আবু সালামা, আবদুল্লাহ বিন আশহাল, বিলাল ও ’আম্মার বিন ইয়াসিরের [রাঃ] মদীনায় হিজরাতের পর বিশজন আত্মীয়-বন্ধুসহ ’উমার [রাঃ] মদীনার দিকে পা বাড়ালেন। এ বিশজনের মধ্যে তাঁর ভাই যায়িদ, ভাইয়ের ছেলে সাঈদ ও জামাই খুনাইসও [রাঃ] ছিলেন। মদীনার উপকণ্ঠে কুবা পল্লীতে তিনি রিফায়া’ ইবন আবদুল মুনজিরের বাড়ীতে আশ্রয় নেন।

’উমার [রাঃ] এর হিজরাত ও অন্যদের হিজরাতের মধ্যে একটা বিশেষ পার্থক্য ছিল। অন্যদের হিজরাত ছিল চুপে চুপে। সকলের অগোচরে। আর উমারের হিজরাত ছিল প্রকাশ্যে। তার মধ্যে ছিল কুরাইশদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও বিদ্রোহের সূর। মক্কা থেকে মদীনায় যাত্রার পূর্বে তিনি প্রথমে কা’বা তাওয়াফ করলেন। তারপর কুরাইশদের আড্ডায় গিয়ে ঘোষণা করলেন, আমি মদীনায় চলছি। কেউ যদি তার মাকে পুত্রশোক দিতে চায়, সে যেন এ উপত্যকার অপর প্রান্তে আমার মুখোমুখি হয়। এমন একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সোজা মদীনার পথ ধরলেন। কিন্তু কেউ এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণের দুঃসাহস করলো না। (তারীখুল উম্মাহ আল-ইসলামিয়্যাহঃ খিদরী বেক, ১/১৯৮)

বিভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের সাথে ’উমারের দ্বীনী ভ্রাতৃ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে দেন। আবু বকর সিদ্দীক, ’উয়াইস ইবন সায়িদা, ইতবান ইবন মালিক ও মুয়াজ ইবন আফরা [রাঃ] ছিলেন ’উমারের দ্বীনী ভাই। তবে এটা নিশ্চিত যে, মদীনায় হিজরাতের পর বনী সালেমের সরদার ইতবান ইবন মালিকের সাথে তাঁর দ্বীনী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। (তাবাকাতঃ ৩/২৭২)

হিজরী প্রথম বছর হতে রাসূলে কারীমের [সাঃ] ইনতিকাল পর্যন্ত ’উমারের [রাঃ] কর্মজীবন প্রকৃতপক্ষে হযরত রাসূলে কারীমের [সাঃ] কর্মময় জীবনেরই একটা অংশবিশেষ। রাসূলকে [সাঃ] যত যুদ্ধ করতে হয়েছিল, যত চুক্তি করতে হয়েছিল, কিংবা সময় সময় যত বিধিবিধান প্রবর্তন করতে হয়েছিল এবং ইসলাম প্রচারের জন্য যত পন্থা অবলম্বন করতে হয়েছিল তার এমন একটি ঘটনাও নেই, যা ’উমারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতীত সম্পাদিত হয়েছে। এইজন্য এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ লিখতে গেলে তা ’উমারের [রাঃ] জীবনী না হয়ে হযরত রাসূল কারীমের [সাঃ] জীবনীতে পরিণত হয়। তাঁর কর্মবহুল জীবন ছিল রাসূল কারীমের [সাঃ] জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

"আসহাবে রাসূলের [সাঃ] জীবন কথা" [১ম খন্ড]



একদিন আলী ইবন আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উমার ইবন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে দেখলেন যে , তিনি মদীনার বাইরে দৌড়াচ্ছেন।

আলী (রা) তাকে বললেন "হে আমিরুল মু'মিনীন ! কোথায় যাচ্ছেন?

তিনি বললেন, '' সাদকার উটগুলো হতে একটি উট পালিয়ে গেছে। আর আমি এটাকে খোঁজ করছি"

আলী রা: বললেন, "আপনার পরের খলীফাদের জন্যে অসুবিধা সৃষ্টি করলেন"

(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭ম খন্ড ,পৃষ্ঠা ২৪৯)



আবু সাঈদ খুদরী (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন: একবার আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে আনা হচ্ছে । আর তাদের পরণে রয়েছে জামা । কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত । আর উমার ইবনুল খাত্তাব (রা:) কে আমার সামনে আনা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (অধিক লম্বা হওয়ায়) টেনে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন । সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী তা'বীর করেছেন? তিনি বললেন: (এ জামা অর্থ) দ্বীন । -

সহীহুল বুখারী, মুসলিম, আল লু'লু ওয়াল মারজান; হা: ১৫৪৬



"আমরা ছিলাম অপমানিত এক জাতি। আল্লাহ্ ইসলামের মাধ্যমে আমাদের সম্মান দিয়েছেন। আমরা যদি ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুর মধ্যে সম্মান খুঁজতে যাই, তিনি আবার আমাদের অপমানিত করবেন।"- আল-ফারুক উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু

[আল মুসতাদরাক 'আলা আস-সাহিহাইন, ২১৪]

কোন মন্তব্য নেই