পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

সাহাবা কারা? উনাদের মর্যাদা কেমন?

'সাহাবা' শব্দটি আরবী ভাষার 'সুহবত' শব্দের একটি রূপ। একবচনে 'সাহেব' ও 'সাহাবী' এবং বহু বচনে 'সাহাবা' ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক অর্থ সংগী, সাথী, সহচর ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় 'সাহাবা' শব্দটি দ্বারা রসূলুল্লাহ্ (সা:) এর মহান সঙ্গী-সাথীদের বুঝায়।

আল্লামা ইবনে হাজার (রহ:) সাহাবীর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন- সাহাবী সেই ব্যক্তি যিনি রসূলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতি ঈমান সহকারে তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের উপরই মৃত্যুবরণ করেছেন।

উপরোক্ত সংজ্ঞায় সাহাবী হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে- ১) রসূলুল্লাহ্ (সা:) এর প্রতি ঈমান, ২) ঈমানদার অবস্থায় তাঁর সাক্ষাৎ, ৩) ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ।

সাহাবীদের মর্যাদা

সাহাবীদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদা হিসেবে স্তরভেদ থাকতে পারে, কিন্তু পরবর্তী যুগের কোন মুসলমানই তাদের কারো সমমর্যাদা লাভ করতে পারবে না। কারণ এই সাহাবীরাই রসূল (সা:) ও তাঁর উম্মতের মধ্যে প্রথম মধ্যসূত্র। অর্থাৎ পরবর্তী উম্মত তাঁদের সূত্রেই দ্বীনের যাবতীয় বিষয় জানতে পেরেছে।

হাফিয ইবন আবদিল বার' সাহাবীদের মর্যাদা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সুহবত ও তাঁর সুন্নাতের হিফাযত ও ইশায়াতের দুর্লভ মর্যাদা আল্লাহ্ তা'আলা এইসব মহান ব্যক্তির ভাগ্যে লিখে রেখেছিলেন। এ কারণেই তাঁরা 'খায়রুল করুন' ও 'খায়রু উম্মাতিন' এর মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।

রাসূল (সা) তাঁর সাহাবীদের গালি দেওয়া বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সমালোচনা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ্, আল্লাহ্! আমার পরে তোমরা তাদেরকে সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত করো না। তাদেরকে যারা ভালোবাসে, আমার মুহাব্বতের খাতিরেই তারা ভালোবাসে, আর যারা তাদেরকে হিংসা করে, আমার প্রতি হিংসার কারণেই তারা তা করে'।

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম লোক হচ্ছে আমার যুগের লোকেরা। তারপর তার পরের যুগের লোকেরা, তারপর তার পরের যুগের লোকেরা। তারপর এমন একদল লোকের আবির্ভাব হবে যাদের কসম হবে তাদের সাক্ষ্যের অগ্রগামী। তাদের ককাছে সাক্ষী চাওয়ার আগেই তারা সাক্ষ্য দেবে।

তিনি আরো বলেন, তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দেবেনা, কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার জীবন, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো তবুও তাদের যে কোন একজনের 'মুদ' বা তার অর্ধেক পরিমাণ যবের সমতুল্য হবে না।

নবী (সা:) এর নিকট জিবরীল এসে বললেন, 'বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে আপনাদের মাঝে কিরুপ গণ্য করেন?' তিনি বললেন, 'সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিমদের শ্রেণীভুক্ত গণ্য করি'। অথবা অনুরূপ কোন বাক্যই তিনি বললেন। (জিবরীল) বললেন, 'বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ফিরিশতাগণও অনুরূপ (সর্বশ্রেষ্ঠ ফিরিশতাগণের শ্রেণীভুক্ত)'।


সাহাবীদের সংখ্যা

সাহাবীদের সংখ্যা যে কত তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না। ইমাম আবু যারআ আর-রাযী বলেছেন, রাসূল (সা:) যখন ইনতিকাল করেন, তখন যারা তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর কথা শুনেছেন এমন লোকের সংখ্যা নারী-পুরুষ মিলে এক লাখেরও ওপরে।

সাহাবীদের যথাযথ হিসেব কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, রসূলুল্লাহ্ (সা:) এর জীবনের শেষ দিকে মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।


কোন মন্তব্য নেই