পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

সমালোচনায় সীমালঙ্ঘন করা ও সম্মানিত ব্যাক্তিদেরকে সমালোচনার টার্গেট বানানো সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর রাসুল (সাঃ)-এর সতর্কবাণী

আমরা অনেক সময় কারো সমালোচনা করতে গিয়ে সচরাচর সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে বসি। বিশেষ করে কোন ব্যক্তি যদি ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত থাকেন, তাঁর সামান্য অথবা উপেক্ষাযোগ্য কোনো ভুল-ত্রুটিকে খুব বড় করে তুলে ধরে তাঁকে মুশরিক, কাফির, বিদা’আতি, খারেজি, ফিতনা সৃষ্টিকারী, জাহান্নামী ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করে পরোক্ষভাবে ইসলাম থেকেই খারিজ করে দেই। অথবা বলি যে, অমুকের মানহায সঠিক নয়। অথবা বলি, অমুকের জন্য দু'আ করা যাবে না ইত্যাদি (লা হাওলা ওয়ালা কু'ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)। এটা আমাদের মানবীয় দুর্বলতাই বটে।

কোন ব্যাক্তিই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন একমাত্র রাসুল (সাঃ) ছাড়া। কোনো মুজতাহিদও ভুলত্রুটি মুক্ত নন। অন্যান্য আলেম ও গবেষকদের কথা না হয় বাদই দিলাম!

আমর ইবন আ’স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’কোন বিচারক ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তার জন্য রয়েছে দু’টি পুরস্কার। আর যদি কোন বিচারক ইজতিহাদে ভুল করেন, তাঁর জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার’’ [বুখারী ৭৩৫২; মুসলিম ৪৩৭৯-(১৫/১৭১৬); আল-লু’লু ওয়াল মারজান ১১১৮; বুলুগুল মারাম ১৩৮৬; তিরমিযি ১৩২৬; ইবন মাযাহ ২৩১৪; আবু দাউদ ৩৫৭৪]

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সম্মানিত ব্যক্তির প্রতি আক্রোশ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, তাঁর ভালো কাজকেও আমরা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে থাকি। এটা অবশ্যই ব্যক্তির প্রতি যুলুম। কারন রাগের কারনে ক্রোধান্বিত ব্যক্তির সঠিক ফায়সালায় উপনিত হওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রাগান্বিত বা উত্তেজিত অবস্থায় রাসুল (সাঃ) বিচার করতে নিষেধ করেছেনঃ-
আবু বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ ‘’কোনো বিচারক রাগের অবস্থায় দু’জনের মধ্যে বিচার করবেনা’’ [বুখারী ৭১৫৮; মুসলিম ৪৩৮২-(১৬/১৭১৭); তিরমিযি ১৩৩৪; আবু দাউদ ৩৫৮৯; ইবন মাযাহ ২৩১৬; বুলুগুল মারাম ১৩৮৭]

সুতরাং কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ভুলত্রুটি হলে মুসলিম ভাই হিসাবে বিনয়ের সাথে আমরা সাধ্যমত তাঁর ভুলকে সংশোধন করার চেষ্টা করবো, কোন আক্রোশ নিয়ে নয়।

ক্রোধান্বিত হয়ে অথবা বিদ্বেষ পোষণ করে কারো সমালচনায় সীমালঙ্ঘন করা যাবেনাঃ-
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ ‘’কোন সম্প্রদায়ের প্রতি ক্রোধ তোমাদেরকে যেন অবশ্যই সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকাজ ও তাকওয়ার ব্যপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর’’[ মায়িদাহ ৫/২]

সম্মানী ব্যাক্তিদের ছোটখাটো ভুলত্রুটি এড়িয়ে যাওয়া
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ ''তোমরা সম্মানী বা উত্তম গুণাবলীর অধিকারী ব্যাক্তিদের ভুল ত্রুটি বা ছোটখাটো পদস্খলন এড়িয়ে যাও বা ক্ষমা করো; তবে হদ্দের অপরাধ ব্যাতিত'' [আবু দাউদ ৪৩৭৫; বুলুগুল মারাম ১২৫৪ (আলবানি সহীহ বলেছেন)]

সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মানহানি করা সুদের সমতুল্য
সাঈদ ইবন যায়িদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’নিকৃষ্ট সুদ হচ্ছে, কারো সম্মান বিনষ্ট করা (অর্থাৎ মর্যাদাবান ব্যক্তিদের গালিগালাজ করা)” [সাহীহাহ ১৪৩০, আতিফা পাবলিকেশন্স ২৫৫ (আলবানি সহীহ বলেছেন)]

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কারো অযথা সমালোচনা করা হতে ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সমালোচনা করার ব্যাপারে ইনসাফ বজায় রাখার তৌফিক দান করুন।


Writer: Anisur Rahman

কোন মন্তব্য নেই