পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইসলামের আলোকে গণধোলাই

অনেক সময় দেখা যায় -কোন এক অপরাধী (চোর/ধর্ষক) গণধোলাই এ মৃত্যু হলো বা গণধোলাই দিয়ে থানায় দিলো কিছু লোক। এ সম্পর্কে শরিয়ত কি বলে?

ইসলামী আইনে এরকম কোন গণধোলাই এর সিস্টেম নাই। সে যত অপরাধ ই করুক কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারেনা, শরীয়তে এর নজির নেই। আইন অনুযায়ী অপরাধী সাজা পাবে। গণধোলাই সাধারণ আইনেও নাই। আমরা কেউ বিচারক নই কথাটা মানতে হবেই। তাছাড়া আমাদের জানা ভুল থাকে তাহলে নিরপরাধ লোকটার কি হবে? আর মূল অপরাধী এতে লাই পেলো ই।

আমরা ধর্ষকগুলার ফাসি চাই, বলছি আর তাকে ফাসির চেয়ে সাজা বেশি দিচ্ছি। এটা জাস্ট উগ্রতা, মাঝে মাঝে দেখা যায় চোর ধরে পিটুনি, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন - যেখানে দেখবে এমন হচ্ছে সেখানে শরীক হবেনা, হয় বাধা দেবে নয়তো পালাবে। কারণ সেখানে অনবরত আল্লাহর গজব নাজিল হতে থাকে।

অপর দিকে শরীয়ত বলেছে - একজনের অন্যায় খুনের সাথে যদি ৫ জন বা ১০ জন বা ১০০ এর ও বেশি লোক জড়িত থাকে তারা সবাই সমান অপরাধে অপরাধী হবে, অর্থাৎ সবাইকে একই সাজা পেতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণ আইনে (দন্ডবিধি)ও একই কথা বলেছে।

একবার ওমর (রাদিয়াল্লাহ আনহু) এক লোকের খুনের ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যুদন্ড দেন ও বলেন - যদি একটা পূরো গোষ্ঠী এই খুনের সাথে জড়িত থাকতো তবু আমি সবাই কে মৃত্যুদন্ড দিতাম।

এখান থেকে বুঝা যায় ইসলাম এর আইন ও সাধারণ আইন কোথাও গণ ধোলাই এর সিস্টেম নাই, বরং নিষেধকরেছে। তাই এসব ঘটনা বন্ধ করতে হবেও আইনলঙ্ঘনকারীদের সাথে আইন হাতে তুলে নেওয়া লোকদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।


তথ্যসূত্র:
  • ইসলামে শাস্তি আইন (ড.আহমদ আলী)
  • দণ্ডবিধি (আইন - ১৮৬০)
  • আলোচনা – “জেনে নিন” । ( ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর - আসসুন্নাহ ট্রাস্ট ডট কম)

কোন মন্তব্য নেই