একটি লেজুড়বৃত্তির ব্যবচ্ছেদ


লেজ।
আরও স্পেসিফিক্যালি বললে, বঙ্গদেশীয় চারু-কারুকলা ব্যাকগ্রাউন্ডের বিজ্ঞানমনস্করা নিজেদের পরিচয় দেবার সময় যে প্রাণীর বংশধর হবার দাবী করে- সেই বানরের লেজ।
এই লেজ নিয়ে সেসব সাহিত্যকলার বিজ্ঞানীদের লেজুড়বৃত্তিটা বেশ দেখার মত।
.
ইন্টারফেইল কিংবা চারুকলা "ল্যাবোরেটরি"-তে বিজ্ঞান করা মুক্তমনারা যখন নিজেদেরকে বানরের উত্তরসূরী প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তখন তাদেরকে বলতে দেখা যায়- যে এই লেজই নাকি তাদের গেছো পূর্বপুরুষদের সাথে বিদ্যমান সেতুবন্ধনের অন্যতম চিহ্নবিশেষ।
.
তারা বলে যে বিবর্তনের প্রবাহে মানুষের লেজ ব্যবহারের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার ফলে তাদের পূর্বপুরুষদের লেজ থাকলেও বর্তমানে মানুষের লেজ নেই,
তবে সেই লেজের কিছু চিহ্ন নাকি আজও মানুষেরা দেহে বয়ে নিয়ে বেড়ায়।

এই দাবির স্বপক্ষে যখন প্রমাণ চাওয়া হয়, তখন বড়জোর পাওয়া যায় একটা মানবশিশুর দেহে "লেজ"সহ ইটারমিডিয়েট লেভেলের বইয়ের (উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণীবিজ্ঞান by গাজী আজমল ফর এক্সাম্পল) একটা ছবি,
নয়তো "১৯০১" সালের তিনটি সাদাকালো ও একটি হাতে আঁকা ছবি, এবং "লেজ" দেখতে পাওয়া গেছে -শুধুমাত্র এটুকুই বলা একটা পেজ,
আর নাহলে তিনটি ❝ caudal appendage ❞ -এর "১৯৮০" সালে প্রকাশিত কেস রিপোর্ট/স্টাডি।
.
ব্যস, এটুকুই।
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এগুলোই বারংবার চোখের সামনে দোলা খেতে থাকে।
এই একই জিনিস বারবার পুরনো কাসুন্দির মত ব্যবহার করে শেয়াল, প্যাঁচা, ভাল্লুক ইত্যাদির মুখোশ নিয়ে মঙ্গল কামনা করতে বের হওয়া প্রবল বিজ্ঞানমনস্ক সম্প্রদায় প্রমাণ করতে চায়- যে ব্যবহার ফুরিয়ে গেলেও পূর্বপুরুষের সেই হারানো বৈশিষ্ট্য লেজ এখনো মাঝেমধ্যে উত্তরসূরী মানুষের মাঝে দেখা যায়।
অতএব, জয়তু ডারউইন!!
.
আর এর স্বপক্ষে দেখা যায়,
মেরুদন্ডের কক্কিক্স নামক বোন বা হাড়কে "টেইলবোন",
এবং ভ্রূণাবস্থায় দেখা যাওয়া একটি "লেজ"সদৃশ স্ট্রাকচারকে "জার্মানির ডারউইন" আর্নস্ট হেকেল-এর বলা এক ভ্রান্ত, fraudulent মতবাদের অংশ হিসেবে "ভ্রূণীয় লেজ" বলে চালিয়ে দেবার ব্যাপক তোড়জোড়।
.
কিন্তু এর পেছনের গল্প পেছনেই রয়ে যায়।
কিংবা হয়তোবা মুক্তমনের দাবীদারেরা ইচ্ছাকৃতভাবেই পেছনে রেখে দেয়, পাছে তাদের মুক্তমনের সংকীর্ণতা প্রকাশ পেয়ে যায় -আল্লাহু 'আলাম।
তো আসা যাক সে কথায় ইন শা আল্লাহ।
.
.
জন্মের পরের তথাকথিত যে "লেজ" নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা, তার কারেক্ট টার্মটা হলো "caudal (lower back) appendage",
যার সাথে "টেইলবোন" নামে প্রচারের চেষ্টা করা কক্কিজিয়াল বোনস বা কক্কিক্সের কোন সম্পর্কই নেই -যদিও বিবর্তনবাদীরা তা জোর করে স্থাপন করতে চায়।
.
এই caudal appendage গুলো ১০০০ জনে মাত্র ১-৩ জনে দেখা যায়, যার অধিকাংশই কেবলমাত্র স্কিন আর ফ্যাটি টিস্যুতে গঠিত।
.
আধুনিক এম্ব্রায়োলজির ভাষায়-
.
❝ Rarely a caudal appendage is found at birth. Such structures are of varied origin (some are teratomata); they practically never contain skeletal elements and are in no sense "tails". ❞
[ O ’ Rahilly , R. and Müller, F . , Human Embryology & Teratology , Second Edition , Wiley - Liss , 1996; in between pages 93-95 ]
[বইটির মোস্ট রিসেন্ট এডিশন হলো থার্ড এডিশন,মে ২০০১]
.
.
তো কক্কিজিয়াল বোনসগুলো/কক্কিক্সকে "টেইলবোন" নামে চালিয়ে দেওয়ার যে পাঁয়তারা করা হয়, তার ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচারের কারণে দেখা যায়,
যে অতীতে কিছু "নাদান" সার্জনরা কোন কারণ ছাড়াই, শুদ্ধ বাংলায় "হুদামুদাই" মানুষের কক্কিক্সকে বের করে ফেলতো।
ঠিক যেমনটা আগে কোন বাছবিচার ছাড়াই টনসিলের ক্ষেত্রে করা হতো।
.
কিন্তু পরবর্তীতে ঠিকই জানা গেল যে টনসিলের ফ্যারিঞ্জিয়াল রিজিওনে গুরুত্বপূর্ণ "চৌকিদারী"-র ভূমিকা আছে, ডানেবাঁয়ে না তাকায়ে তাকে কেটে ফেললে শক্ত কন্সিকোয়েন্স আছে; তো কক্কিক্সই বা বাদ যাবে কেন?
.
ফলাফল-
অকেজো, অকর্মণ্য বলে বের করে ফেলা কক্কিক্সের পেশেন্টের মারাত্মক সমস্যায় ভোগা।
যেমন উঠতে-বসতে কষ্ট, জন্মদানকালীন সমস্যা এমনকি সময়মত টয়লেটে না যেতে পারারও সমস্যা।
.
যার ফলে বর্তমানে কেবল এবং কেবলমাত্র এক্সট্রিম লাস্ট রিজর্ট হিসেবেই "কক্কিজেকটমী" করা হয়,
কিন্তু তখনও ক্রুশাল মাসলগুলো অন্যকোথাও অ্যাটাচ করার চেষ্টা করা হয়।
.
.
তবে এইসবের ভিত্তি হিসেবে যা ছড়ানো হয়, তা হলো সেই তথাকথিত "ভ্রূণীয় লেজ", যা প্রকৃতপক্ষে কোন "লেজ"-এর জাতেও পড়ে না।
.
এই "লেজ" নাম দেওয়ার চেষ্টা করা স্ট্রাকচার বা গঠনের সঠিক টার্ম হলো "caudal eminence", যার অভ্যন্তরে শুধুমাত্র নিউরাল টিউব বা নালীই থাকে, আর কিছু না।
আর তা সাধারণত ৫ সপ্তাহ থেকে কমতে থাকে, আর কখনো বা যদি জন্মের পর তা থাকে (হাজারে যা মাত্র ১-৩ জন), তাহলে হয় তা নিউরাল টিউবের "অকালপক্ক" বৃদ্ধির কারণে, আর না হলে সাথে প্যাকেজ হিসেবে "spina bifida" নামক মেডিকেল কন্ডিশনযুক্ত হয়ে থাকে।
.
অর্থাৎ জন্মের পর "লেজ" জাতীয় যা কিছুই দেখা যায়, সর্বক্ষেত্রেই তা অ্যানাটমিকাল অ্যানোমালি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয় -কিন্তু কখনোই এই বঙ্গদেশের মত তাকে "লেজ" বলে চালিয়ে দেওয়া হয় না।
.
উপরোল্লিখিত এম্ব্রায়োলজীর টেক্সটবুকের ভাষায়-
.
❝ Supernumerary vertebral centra that would later degenerate are not present and hence no tail exists ❞
[ page 336 ]
এবং,
.
❝ the caudal tip of the trunk appears particularly tapered at 5 weeks , because it contains merely neural tube , but is in no sense a (future) vertebrated " tail " . ❞
[ in between pages 331-332 ]
.
.
তো এখন এসমস্ত তথ্যপ্রমাণাদির মুখে গাঁইগুঁই করে বলা হলো যে-
"আচ্ছা ঠিক আছে।
তবে কথা হলো লেজ নিয়ে জন্মানো এক তৃতীয়াংশেরও কম শিশুদের থাকে সিউডো টেইল যা কিনা লেজ নয়। বাট বাকিরা ট্রু লেজ নিয়ে জন্মায় যাতে নিউরাল টিউবের সাথে কশেরুকা, তরুনাস্থি, ঐচ্ছিক পেশী ইত্যাদি থাকে এবং পেশী সংকোচনের মাধ্যমে লেজ নাড়ানোর নজির ও আছে।"
.
.
ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে যে জন্মের পর তথাকথিত "লেজ" দেখতে পাওয়া যায় ১০০০ জনে মাত্র ১-৩ জনে।
সেই ১-৩ জনের আবার // এক তৃতীয়াংশেরও কম শিশুদের থাকে সিউডো টেইল যা কিনা লেজ নয়। // ,
সেখান থেকে আবার বাদবাকি কতজনই বা থাকে, তারা নাকি আবার // ট্রু লেজ নিয়ে জন্মায় যাতে নিউরাল টিউবের সাথে কশেরুকা, তরুনাস্থি, ঐচ্ছিক পেশী ইত্যাদি থাকে এবং পেশী সংকোচনের মাধ্যমে লেজ নাড়ানোর নজিরও আছে। // ।
.
সে কি অভূতপূর্ব হিসাব!
সত্যিই, শিহরিত হয়ে উঠতে হয়।
তবে শিহরণকে আপাতত শিকেয় তুলে রেখে উপরিউক্ত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা যাক।
.
যদিও যে "লেজ" নাড়ানোর নজির থাকার কথা দাবী করা হয়েছে তা জন্মের পর দেখতে পাওয়া caudal appendage -এর ব্যাপারে, তবুও প্রথমে ভ্রূণাবস্থায় দেখা যাওয়া caudal eminence -এর কথা বলা যাক।
কারণে অন্তরে ব্যধিগ্রস্থদের জন্য কোনরকমের ফাঁকফোঁকর না রাখাই ভাল।
.
তো according to the same embryology textbook mentioned before-
.
❝ Between 4 and 7 weeks the caudalmost part of the trunk tapers, probably as a result of a precocious growth of the neural tube .
The proximal part of the projection contains some coccygeal vertebrae , whereas the distal portion , although it contains neural tube , is non-vertebrated. ❞
[ page 93 ]
.
অর্থাৎ ভ্রূণাবস্থায় ভ্রূণের দূরবর্তী পৃষ্ঠদেশীয় অংশটি যে ক্রমশ সরু হয়ে আসে, তা ঘটে নিউরাল টিউবের "অকালপক্ক" বৃদ্ধির কারণে।
এই বর্ধিত অংশটির কাছের অংশে কিছু কক্কিজিয়াল ভার্টিব্রি থাকে, যেখানে দূরবর্তী অংশে নিউরাল নালী থাকে,কিন্তু তবুও তা নন-ভার্টিব্রেটেড হয়।
.
অর্থাৎ এই তথাকথিত "ভ্রূণীয় লেজ"ও বোন বা হাড়বিহীন হয়।
.
এখন প্রশ্ন হলো,
আজতক এমন কোনো মেরুদন্ডী প্রানীর লেজের হদিস কি পাওয়া গেছে, যা হাড়বিহীন হয়ে থাকে?
কীভাবে সম্ভব এজাতীয় কথাবার্তা?
.
এতেও যদি মন না ভরে, এবং caudal eminence -কে ভাঙা রেকর্ডের মত "ভ্রূণীয় লেজ" বলে চালিয়ে দিয়ে জোচ্চুরির চেষ্টা জারি থাকে,
তাহলে বলা যায় ২০০৪ সালে "Cell Tissues Organs" জার্নালে প্রকাশিত হওয়া ৫২টি ভিন্ন ভিন্ন হিউম্যান এম্ব্রায়ো নিয়ে ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন স্টেজের উপর করা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টাডির কথা।
.
সেই স্টাডিটিতে যে সেটির অথোরেরা বলেন,
যে এই caudal eminence অংশটি মানবদেহে এমনকি কোন টেম্পোরারী "লেজ"-ও গঠন করে না -ভুলেও কি তা জানার চেষ্টা করা হয়েছে?
.
❝ The eminence produces the caudal part of the notochord and, after closure of the caudal neuropore, all caudal structures, but it does not produce even a temporaray "tail" in the human. ❞
[ Müller F and O'Rahilly R., "The primitive streak, the caudal eminence and related structures in staged human embryos," Cells Tissues Organs. 177(1):2-20, 2004 ]
.
কোথায় গেল তাহলে সেই ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা "ভ্রূণীয় লেজ"?
.
.
কেন Keith L. Moore, T. V. N. Persaud , Mark G. Torchia তাদের লেখা মেডিকেল টেক্সটবই "The Developing Human" -এ বলে বসে আছেন-
.
❝ All evidence of the // caudal eminence // has disappeared by the end of the eighth week. ❞
.
কিংবা আরও একটুখানি "অসহিষ্ণুতা" দেখিয়ে যদি সেই বইটিতেই তারা আরও কী বলেছেন তার উল্লেখ করি-
.
❝ Toward the end of fourth week, a long "tail-like" // caudal eminence // is a characteristic feature. ❞
.
.
"caudal eminence" is a characteristic feature -বুঝা গেল কিছু?
কেন বলা হলো না, "এম্ব্রায়োনিক টেইল" ইজ এ ক্যারেক্টারিস্টিক ফীচার?
জবাবটা ঠিক কী?
.
আর ঠিক এর উপরেই তো তাদেরই এই একই বইয়ে-
অষ্টম সপ্তাহের শেষ দিকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায় "caudal eminence", কোন "লেজ" না
-বলা আছে তাও উল্লেখিত আছে।
তাহলে?
.
কীভাবে কী?
how what?
.
আসলে ব্যাপারটা হলো চক্ষুদানে দৃষ্টিক্ষম করে তোলার চেষ্টা করা -অন্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,
নিজের চোখ নিজেই খুলে ফ্রিজে রেখে দেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে না।
.
.
যাই হোক, আলোচনায় ফেরা যাক।
.
এবার যদি লক্ষ্য করা যায় জন্মের পরে পাওয়া "লেজ"-এর প্রতি, তাহলে একটি এম্ব্রায়োলজীর টেক্সটবুকের ভাষায় বললে-
.
❝ Rarely a caudal appendage is found at birth. Such structures are of varied origin (some are teratomata); they practically never contain skeletal elements and are in no sense " tails. "
Projections that contain skeletal elements are caused by a dorsal bending of the coccyx, do not contain more vertebrae than normal, and have nothing to do with " atavism ". ❞
[ O ’ Rahilly , R. and Müller, F . , Human Embryology & Teratology , Second Edition , Wiley - Liss , 1996; in between pages 93-95 ]
.
অর্থাৎ যে সমস্ত বর্ধিত অংশে স্কেলেটাল এলিমেন্টস থেকে থাকে, তা কক্কিক্সে ডর্সাল বেন্ডিঙের কারণে হয়ে থাকে।
কিন্তু তারপরেও তাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভার্টিব্রি থাকে না,
এবং যা "atavism" -অর্থাৎ পূর্বপুরুষের হারানো বৈশিষ্ট্য ফিরে পাওয়ার সাথে কোনরূপেই সম্পৃক্ত না।
.
কোথায় তাহলে সেই তথাকথিত "অরিজিনাল টেইল"-এর প্রমাণ?
.
যেখানে বলাই হয়েছে যে এতে কঙ্কালিক উপাদান থেকে থাকলেও তা স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন হয় না,
বরং স্বাভাবিক কক্কিক্সই পৃষ্ঠদেশীয় বক্রতার কারণে সেরকম হয়ে থাকে,
এবং তা শুধু গোড়ার দিকেই থাকে, আগার দিকে বা পুরো প্রজেকশন জুড়ে থাকে না -তাহলে?
.
সে বস্তুটি "অরিজিনাল টেইল" হলো কী করে?
.
সামু, মুক্তমনা প্রভৃতি ব্লগে বসে বসে প্রবল মাত্রায় বিজ্ঞান করা যে সম্প্রদায় নিজেদেরকে বানরের বংশধর প্রমাণের চেষ্টায় কেবল গলার রগ কয়েক গুণ ফুলিয়ে এবং ত্যাঁড়া করে কেবলমাত্র অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেই সক্ষম,
তাদের চক্ষুকোটর নামক গর্তে কি ধরা পড়ে না, যে Journal of Neurosurgery-র একটি পেপারের মতে-
.
❝ In all reported cases, the vestigial human tail lacks bone, cartilage, notochord, and spinal chord. It is unique in this feature. ❞
[ Roberto Spiegelmann, Edgardo Schinder, Mordejai Mintz, and Alexander Blakstein, "The human tail: a benign stigma", Journal of Neurosurgery, 63: 461-462 (1985) ]
.
অথবা Journal of Child Neurology -এর ২০১৩-র একটি পেপারেও যা বলতে দেখা যায়-
.
❝ // True tails are boneless //, midline protrusion usually attached to the sacrococcygeal region and capable of spontaneous or reflex motion. They consist of normal skin, connective tissue, muscle, vessels, and nerves and are covered by skin. // Bone, cartilage, notochord, and spinal chord are lacking. // ❞
[ Surasak Puvabanditsin, Eugene Garrow, Meera Joshi-Kale, and Rajeev Mehta, "A Gelatinous Human Tail With Lipomyelocele: Case Report," Journal of Child Neurology, 28(1) 124-127 (2013) (emphases added). ]
.
.
কোথায় তাহলে সেই তরুণাস্থি, অস্থি, ঐচ্ছিক পেশীসহ অরিজিনাল লেজ এবং তার পেশী সংকোচনের মাধ্যমে নাড়ানোর নজির?
.
যেখানে বলা হয়েছে যে যদি সাধারণ গঠন থেকে ভিন্ন হয়ে caudal appendage -এ স্কেলেটাল এলিমেন্টস থাকে, তাহলে তার কারণ হলো কক্কিক্সের পৃষ্ঠদেশীয় বক্রতার ফলে কিছু অংশ সেই ফ্লেশি/ মাংসল স্ট্রাকচারের গোড়ার দিকে অর্থাৎ sacrococcygeal region বা পৃষ্ঠপ্রাচীরের যে অংশে সেটি যুক্ত সেখান দিয়ে কক্কিক্সের কিছু অংশ ঢুকে থাকা/যাওয়া।
.
কিন্তু তবুও সেখানে সেই স্বাভাবিক সংখ্যক বোনসই থাকে, আর এমনকি স্পাইনাল কর্ডের সোজা বরাবর থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়ে কর্ডের পাশ বরবার অবস্থিত হয়েও appendage হতে পারে -তাহলে?
.
এই তাহলে বঙ্গদেশের বিজ্ঞানের ঠিকাদারেদের "মুক্ত" মনের দশা?
.
.
কিংবা এছাড়াও যে The New England Journal of Medicine -এ "লেজ"-এর ওপরে দেওয়া একটা বিখ্যাত পেপারে বলা হয়েছে-
যে caudal appendage -এমনকি কোন প্রাথমিক ভার্টিব্রাল বা কশেরুকার অংশ থাকে না, এমন কোন প্রমাণ নেই যে কোনো caudal appendage -এ নিম্নপৃষ্ঠদেশীয় ভার্টিব্রি কিংবা অতিরিক্ত সংখ্যক ভার্টিব্রি আছে -সেটা?
.
❝ When the caudal appendage is critically examined, however, it is evident that // there are major morphologic differences between the caudal appendage and the tails of other vertebrates. //
First of all, the caudal appendage does not contain even rudimentary vertebral structures. There are no well-documented cases of caudal appendages containing caudal vertebrae or an increased number of vertebrae in the medical literature, and // there is no zoological precedent for a vertebral tail without caudal vertebrae. // ❞
[ Fred Ledley, "Evolution and the Human Tail", The New England Journal of Medicine, 306 (20): 1212-1215 (May 20, 1982) (emphases added). ]
-সেটা?
.
এই-ই তাহলে আর্টস, কমার্স, ললিতকলা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা বিজ্ঞানমনস্কদের "বিজ্ঞান করা"-র দশা?
.
.
প্রকৃতপক্ষে যখন লেজকাটা শেয়ালের মত নিজেরা পথভ্রষ্ট হওয়া এ সকল প্রাণীদের অন্যান্য স্বাভাবিক ভাইবোনদেরকেরকেও পথভ্রষ্ট করার এহেন প্রচেষ্টা ও কার্যকলাপ চোখে পড়ে,
তখন ভর্ৎসনার সাথে শুধু একটা কথাই মনে হয়-
যে কাজী নজরুল ইসলাম সাহেবের বলা "আবার তোরা মানুষ হ..." কথাটি তাহলে বোধহয় নিজের সার্থকতা খুঁজে পেয়েছে।
.
দিনশেষে, এদেরকে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মত করেই বলা যায়-
" সালামুন 'আলা মানিত্তাবা 'আল হুদা "
- সৎপথ অবলম্বনকারীদের প্রতি শান্তি
.
.
===
লেখকঃ মোঃ মশিউর রহমান

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ Click Here  এবং Click Here

ফেসবুক পেজঃ Click Here

Post a Comment

Previous Post Next Post