পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

আট চতুষ্পদ জন্তু সমস্যা সমাধান [উমর সিরিজ - ১]


চকবাজার মোড়ে চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সাথে ছিল এক্সট্রোর্ডনারি ট্যালেন্টেড উমর আর দ্যা জার্নালিস্টখ্যাত সাইফ। উৎপল দাও ছিলেন সাথে। উৎপল দা সম্পর্কে কিছু বলি। আমাদের চেয়ে সিনিয়র উনি। নিজেকে স্কেপটিক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন তিনি। সাহিত্য আর বিজ্ঞানে তাঁর দখল অসাধারণ , কিন্তু আমাদের উমরের চাইতে বেশি নয়।
উমরকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়ই প্রশ্ন করে থাকেন উৎপল দা। সেদিনও এর ব্যতিক্রম হয় নি।
.
চায়ে কয়েক চুমুক দেওয়া অলরেডি শেষ হয়েগিয়েছিল। উমর চায়ের একটু মনযোগী হয়ে পড়া মাত্রই উৎপল দার প্রশ্ন , "আচ্ছা ! উমর ! পৃথিবীতে মোট প্রাণীর সংখ্যা কত ?"
উমর উৎপল দার দিকে তাকালো , "প্রাণীর সংখ্যা.... প্রায় ১৫ লক্ষ । আর এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। "
-"এর মধ্যে চতুষ্পদ প্রাণীর সংখ্যা কত হবে?"
-"চতুষ্পদ প্রাণীরা বেসিকালি অ্যাম্ফিবিয়া , রেপটিলিয়া আর ম্যামিলিয়া শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত । সব মিলিয়ে এদের সংখ্যা ২২ হাজারের মত হবে। "
-"আচ্ছা ! কেউ যদি তোমাকে এসে বলে , চতুষ্পদ প্রাণীর সংখ্যা ৮ টি , তাহলে তাকে তুমি কি বলবে?"
উমর মুচকি হাসি দিয়ে উৎপল দার চেহারা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এমনভাবে চায়ের কাপের দিকে তাকলো যেন সে অলরেডি উৎপল দার মটিভ বুঝে গেছে ।
চায়ে চুমুক দিয়ে সে বলল , "দাদা ! আপনি সম্ভবত সুরা যুমারের ৬ নং আয়াত সম্পর্কে বলতে চাচ্ছেন। যেখানে বলা হয়েছে , তিনি তোমাদের জন্য আট প্রকারের চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তাই না ? "
উৎপল দা ও মুচকি হাসি দিলেন । অতঃপর চায়ে চুমুক দিয়ে হ্যা সূচক মাথা নাড়লেন।
আমি বুঝতে পারলাম ইন্টারেস্টিং কিছু হতে চলেছে । তাই কান খাড়া করলাম । সাইফও কান খাড়া করতে দেরি করেনি ।
.
উমর বলল ," দাদা ! এই আয়াতটি কেউ পড়লে সে স্বাভাবিকভাবেই মনে করে নেবে যে , আল্লাহ পৃথিবীতে কেবল আটটি চতুষ্পদ প্রাণী সৃষ্টি করেছেন । তাই , সুরা আনআমের ১৪৩-১৪৪নং আয়াতে যেতে হবে যেখানে এই আট প্রাণীর কথা বলা হয়েছে । এরা হল নর ও মাদী মেষ , নর ও মাদী ছাগল , নর ও মাদী উট , নর ও মাদী গরু । মোট আটটি প্রাণী যেগুলো হালাল হওয়া সত্ত্বেও কাফেররা নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়ছিল । তাই , আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে এদের হালাল হওয়ার দিকটি তুলে ধরে বলেছেন , তোমাদের জন্য আল্লাহ আট প্রকারের জন্তু অবতীর্ন করেছেন । "
.
উৎপল দা হঠাৎ যেন নিজের কুল হারিয়ে ফেললেন । "তোর কি মনে হয় আমি সুরা আনআম না পড়ে তোর সাথে ডিবেট করতে এসেছি ? "
-"না । দাদা । আচ্ছা আপনি বলুন , এই আয়াত তাহলে কি বোঝাচ্ছে ?"
-এখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে যে , "আল্লাহ আট প্রকারের প্রাণী সৃষ্টি করেছেন । "
-"আচ্ছা দাদা ! আপনার কি মনে হয় ? কুরআন কে লিখেছে ?
-"দেখ ! আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই । যদি কুরআন আল্লাহ লিখতো , তাহলে এতে ভুল থাকতো না । তোদের নবি মুহাম্মদ ই কুরআনের রচয়িতা । "
সাইফ আর ধৈর্য ধরতে পারলো না । বলে উঠল , "উৎপল দা ! একজন নবি যে কিনা পড়ালিখা জানতেন না তিনি কুরআন লিখেছেন , এটা তো কোনো গাঁজাখোরই বলতে পারে । "
.
উৎপল দা কিছু বলার আগেই উমর বলে উঠল , "দাদা ধরে নিলাম কুরআন মুহাম্মদ সা লিখেছেন । কিন্তু তাঁরও তো কমন সেন্স ছিল । তাই না ? পৃথিবীতে মাত্র আটটি চতুষ্পদ প্রানী আছে , এই কথা তিনি বলার আগে একশ বার ভাবার কথা তাই না ?"
উৎপল দা উত্তর দিতে দেরি করলেন না । "জি না । নবি মুহাম্মদ হয়তো মনে করতো যে আরবে যে উট , মেষ , ছাগল আর গরু আছে সেগুলো ছাড়া বোধ হয় , পৃথিবীতে আর কোনো চতুষ্পদ জন্তু নেই ।"
আরও একবার মুচকি হাসি দিল উমর । এবার তার এক্সপ্রেশন দেখে বুঝতে পারলাম যে উৎপল দা বাঁশ খেতে চলেছেন ।
.
উমরের সেই বাঁশটি ছিল এইরকম ,"কুরআনের সুরা নাহলের ১৬ নং আয়াতে ঘোড়া , খচ্চর আর গাধার কথা বলা হয়েছে । তিরমিযীর কিতাবুল বুয়ুর এক হাদিসে রাসুল সা বিড়াল ও কুকুরের বিক্রয়মূল্য নির্ধারন করতে নিষেধ করেছেন ।
তিরমিযীর আরেক হাদিসে শুকরকে হারাম বলা হয়েছে । বুখারির ফারায়িজ অধ্যায়ে বাঘের ঘটনা বলা হয়েছে । সুরা ফিলে হাতির কথা বলা হয়েছে । "
রাইফেলের গুলির মতো রেফারেন্স দিতে লাগলো উমর । আর একটু একটু করে বড় হত লাগলো উৎপল দার কপালের ভাঁজ ।
এরপর এক দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে উমর বলল , "তার মানে মুহাম্মদ সা অনেকগুলো চতুষ্পদ প্রানী সম্পর্কেই জানতেন । "
উৎপল দা -" উম মমম হতে পারে"
-"তার মানে কি আপনার মনে হয় নবি সা কুরআন লিখেছেন আর সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেছেন ? তাই , এই আয়াত দিয়ে এটা বোঝানো হচ্ছে না যে পৃথিবীতে কেবল আটটি চতুষ্পদ জন্তু আছে । বরং এটি বোজানো হচ্ছে যে , এই আট প্রকারের জন্তু মানুষের কল্যানের জন্য অবতীর্ন করা হয়েছে । "
.
উৎপল দা আর কিছু বললেন না । হয়তো তিনি উত্তরটা পেয়েগিয়েছিলেন । তিনি ঘড়ির দিকে তাকালেন আর -"আই থিংক আই হ্যাভ টু গো । ওকে ভাল থাকিস ।"
সাইফ তো পারছিল না আনন্দে চিৎকার করতে । আমি চার টাকাটা দিলাম ।
সাইফ গলা নিচু করে বলল ," চালাই যা। "
.
লেখকঃ ফারহান গনি 

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ Click Here  এবং Click Here

ফেসবুক পেজঃ Click Here

কোন মন্তব্য নেই