পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

চন্দ্রগ্রহণ


আধুনিক সময়ে আমরা সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করতে পছন্দ করি। তবে প্রাচীনকালে কিন্তু যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসই বেশী প্রাধান্য পেতো। যেমন চীনারা বিশ্বাস করতো কোনো বিশাল আকারের ড্রাগন উড়ে গিয়ে চাঁদে হামলা করেছে। চেষ্টা করছে চাঁদটাকে গিলে ফেলার। ফলে চন্দ্রগ্রহণ হচ্ছে। এ কারণেই হয়তো চায়নীজ ভাষায় eclipse কে বোঝাতে “Shi” শব্দটা ব্যবহার করা হতো। “Shi” বলতে কোনো কিছুকে গিলে ফেলাকে বোঝানো হয়।
.
তো চাঁদকে ড্রাগন নামক দৈত্যের হাত থেকে বাঁচাতে কি করতে হবে? তারা বিশাল আকারের ড্রাম নিয়ে বাজানো শুরু করতো। অনেকক্ষণ বাজানোর পর যখন চন্দ্রগ্রহণ শেষ হয়ে যেতো, তখন তারা ভাবতো তাদের বাদ্য-বাজনার শব্দে বুঝি ড্রাগন ভয়ে পালিয়েছে। এবার আনন্দ করার পালা।

পবিত্র কুর’আনে আল্লাহ্‌ তায়ালা কিয়ামতের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন এমন এক সময়ের কথা যখন চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে পড়বে।(৭৫:৮-৯) তাই চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ কিছুটা হলেও আমাদের কিয়ামতের কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় একদিন আমাদেরকে আমাদের রবের সামনে দাঁড়াতে হবে। রাসূল (সা.) তাই একবার সূর্যগ্রহণ হলে মুসলিমদের সাথে নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। 
.
তার মানে আমাদের মুসলিমদের বিশ্বাস কি প্রাচীন চীনাদের মতো? চন্দ্রগ্রহণ হয়েছে তার মানে নিশ্চয়ই খারাপ কিছু হয়েছে? নাকি বারো শতকের ইউরোপের মতো- যখন ইংল্যাণ্ডের রাজা হেনরী ১১৩৩ সালে সূর্যগ্রহণের পর মারা গিয়েছিলেন তখন পুরো ইউরোপে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল? তারা ভেবেছিলো সূর্যগ্রহণের কারণেই এমনটা হয়েছে। আরো খারাপ কিছু আসছে।
আমরা মোটেও এমন অন্ধ-বিশ্বাস রাখি না। কিন্তু আমরা নিজেদেরকে বিজ্ঞান দ্বারা অন্ধ করে রাখি না। আমরা বিশ্বাস করি সকল ন্যাচারাল ফেনোমেনা আল্লাহ্‌র অনুমতিতেই ঘটে থাকে এবং এর দ্বারা তিনি অবশ্যই আমাদের কাছে কোনো মেসেজ পাঠাচ্ছেন। তাই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করি। তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। একই কারণে ভূমিকম্প হলে সবাই যখন ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলোর নড়াচড়া নিয়ে বিশাল লেকচার দেয়া শুরু করে, আমরা তখন তাঁকে স্মরণ করি যার কাছে শুধু এই প্লেটগুলোকে নড়াচড়া করানোই নয় বরং পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেয়া একেবারেই মামুলী ব্যাপার। 
.
তবে আমরা কোনো মিথ্যা বিশ্বাস রাখি না। আমাদের নবী (সা.) আমাদের কোনো মিথ্যা বিশ্বাস রাখতে দেননি। রাসূল (সা.) এর একমাত্র জীবিত ছেলে ইব্রাহীম (রা.) যেদিন মারা যান, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিলো। সবাই বলাবলি শুরু করলো, “ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ হয়েছে।” রাসূল (সা.) যদি সত্যিই ভণ্ড নবী হতেন তবে তার জন্য এটা খুব সুবর্ণ সুযোগ ছিল। উনি বলতে পারতেন, “আমি একজন নবী! আমার ছেলের মৃত্যুতে যদি সূর্যগ্রহণ না হয়, তবে কার মৃত্যুতে হবে?” কিন্তু তিনি এই কুসংস্কারকে চিরতরে বিনষ্ট করে বললেন, “সূর্য ও চন্দ্র মহান আল্লাহ্ তায়ালার দু‘টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না।” 
রাসূল (সা.), ইব্রাহীম (রা.) এর মৃত্যুতে কেঁদেছিলেন আর করেছিলেন তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, “চোখ অশ্রুসিক্ত, হৃদয় ব্যথিত। তবুও আমরা এমন কিছু বলি না যা আমাদের রবকে অসন্তুষ্ট করে।”
.
.
“তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে আলোময় আর তার জন্য নির্ধারণ করেছেন বিভিন্ন মনযিল, যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ এগুলো অবশ্যই যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।” (আল কুর’আন, সূরা ইউনুস :৫)
.
=====
লেখকঃ শিহাব আহমেদ তুহিন [ফেসবুক id: Shihab Ahmed Tuhin]

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ Click Here  এবং Click Here

ফেসবুক পেজঃ Click Here

কোন মন্তব্য নেই