পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

কিভাবে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করাবো? (৫ম পর্ব)


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
প্রশংসা আল্লাহ সুবাহানওয়া তা'আলার। শান্তি বর্ষিত হোক রাসূল (সা) ও তার অনুসারীদের উপর।

আমি ইতোমধ্যে যখন বুঝতে পারবো আমার আকস্মিক পরিবর্তনকে আমার পরিবার মেনে নিতে পারছে না, আমার ইচ্ছা ও লক্ষ্য সৎ হওয়া সত্যেও তারা আমাকে বুঝতে চেষ্টা করছে না, তারা নিজেদের মুসলিম দাবি করলেও ইসলামকে নিজের সাথে পরিপূর্ণভাবে জড়িয়ে নিতে পারছে না। তখন আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আরো একধাপ বেড়ে যাবে। অর্থাৎ তাদের এই উদাসীনতা ও অবহেলা থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। তবে সাথে রাখতে হবে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও রাসূল (সা) এর দেখানো রাস্তা। আর একজন প্রকৃত মুসলিমের প্রাথমিক দায়িত্ব এটাই।


আল্লাহ সুবাহানওয়া তা'আলা বলেন:
মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে। -[সূরা আত তাহরীম, আয়াত: ৬]

অর্থাৎ আমার পরিবারের অবুঝ ও উদাসীন আচরণে আমাকে ধৈর্য্যহীন হলে চলবেনা। যখন আমি বুঝতে পেরেছি তারা ভুল করছে, তখন এই ভুলের সঠিক উত্তরটা তাদেরকে জানিয়ে দেওয়াই আমার মৌলিক দায়িত্ব। এছাড়া এ বিষয়ে আমার নিকট অন্য সবার চেয়ে আমার পরিবারই বেশি হকদার। সেটা হতে পারে আমার প্রতিটা সফলতার আনন্দ মূহর্ত, আমার প্রতিটা অর্জনের পরবর্তী সুখের মূহর্ত। আর এটা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যায়। তবে ইসলামের ব্যাপারে এই ক্রমধারা ঠিক না থাকার পেছনে একটাই কারণ 'শয়তানের কুমন্ত্রণা'। আর এ ব্যাপারটা বুঝেশুনেই আমাকে ধৈর্য্যসহকারে আমার পরিবারের পেছনে সময় ব্যায় করতে হবে। আর যখন আমার পরিবারের সাথে ইসলামের দেওয়া নিয়ামাহ, রাহমাহ ও বারাকাহ নিয়ে আলোচনা করতে পারবো এবং ইসলামকে নিজের জীবনে উপভোগ করতে পারবো, তখনই আসবে প্রাথমিক সফলতা। (ইন শা আল্লাহ)

আর আমার পরিবার যেহেতু আমার সবচেয়ে নিকটজন, সেহেতু তাদেরকে দ্বীন ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে। যেন তাদেরকে পরকালে আগুনে জ্বলতে না হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে পরিবারের সবচেয়ে পছন্দের মানুষটাকে বুঝাতে হবে। সে হতে পারে আমার মা/বাবা/ বড় ভাই/ছোট ভাই/ বড় বোন/ছোট বোন কিংবা আমার স্ত্রী। আর এখানে সফলতা আসলে পরবর্তীতে আরো সহজ হয়ে যাবে। (ইন শা আল্লাহ)

যদি প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হই, অন্য আরেকজনের পেছনে সময় ব্যায় করতে হবে। এভাবে সবার পেছনে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে। কারণ এই দায়িত্ব আমার উপর আল্লাহ তা'আলা অর্পিত করেছেন। আর কখনো নিজেকে ব্যর্থ মনে হলে, তখন ভাবতে হবে আমি যা কিছু করছি সবই আল্লাহর জন্য। আর এর প্রতিদান আল্লাহই দিবেন।

আর কারো যদি এই কাজ করতে গিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়, তখন মনে করতে হবে আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) এর ধৈর্য্য ও সাহসীকতার দৃষ্টান্ত। যেখানে তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবই ছিলো মুশরিক। এমনকি তাকে তাঁর সম্প্রদায় থেকে হিজরত করতে হয়েছিলো এবং দিতে হয়েছিল অগ্নি পরীক্ষা। আর ইবরাহীম (আ) কে ঐ অগ্নি থেকে আল্লাহ তা'আলা রক্ষা করেছিলেন কেবল আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন ও সম্পূর্ণ ভরসার কারণে।

আল্লাহ সুবাহানওয়া তা'আলা বলেন,
হে আগুন! তুমি ঠান্ডা ও নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য। -[সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৬৯]

অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তার প্রকৃত বান্দাদের যেকোন বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তাই নিজের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ হবার কিছুই নেই। কারণ এটা আমার জন্য পরীক্ষা বৈ কিছুই নয়। আর যদি আমার উদ্দেশ্য আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য হয়, তাহলে আমার হারাবার কিছু নেই। তখন এর প্রতিদান পরকালে পাবার অপেক্ষা করতেই পারি। (ইন শা আল্লাহ তা'আলা)



ইসলামে প্রবেশ সিরিজ
লেখক: আরিফুল ইসলাম দিপু


আরো পড়ুন:

কোন মন্তব্য নেই