পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ধারাবাহিক কুরআন ০৮


[১]
একদা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনগণকে বললেন, “তোমাদের উপর আল্লাহ তা'আলা হজ্ব ফরয করেছেন।"
-"হে আল্লাহর রাসূল সঃ! প্রতি বছর হজ্ব ফরজ?"

রাসুলুল্লাহ সঃ নীরব হয়ে গেলেন। সেই লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু, নবী সঃ কোনো উত্তর দেননি। সে তৃতীয়বারও একই প্রশ্ন করলে তিনি (সঃ) বললেন, "প্রতি বছর নয়; কিন্তু, যদি আমি 'হ্যাঁ' করে দিতাম? তবে প্রতি বছরের জন্য তা ফরয হয়ে যেতো। তারপর তোমরা তা পালন করতে পারতে না।"

এরপর নবী সঃ বললেন, “আমি যতক্ষণ পর্যন্ত কিছু না বলি, ততক্ষণ তোমরাও আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না। তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের এ বদঅভ্যাসই ধ্বংস করে দিয়েছে। তারাও খুব বেশী প্রশ্ন করত আর নবীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করত। আমি যদি তোমাদেরকে কিছু নির্দেশ দেই তবে সাধ্যানুসারে তা পালন কর।"

[২]
একবার এক লোক রাসূলুল্লাহ সঃ-কে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল সঃ! বনী ইসরাঈলের পাপ মোচন যেমনভাবে হয়েছিল ঐভাবেই যদি আমাদের পাপ মোচন হতো তবে কতই না ভাল হতো!" এটা শুনা মাত্রই রাসূল সঃ আল্লাহর দরবারে আরয করেন, “হে আল্লাহ! আমরা এটা চাইনে।"
তারপর তিনি বললেন, "বানী ইসরাঈল যখন কোন পাপ কার্য করত, তা তার দরজার উপর লিখিত পাওয়া যেতো ও সঙ্গে সঙ্গে সেই পাপ মোচনের মাধ্যমও লিখে দেয়া হতো। তখন হয় তারা দুনিয়ার লাঞ্ছনা মঞ্জুর করতঃ কাফফারা আদায় করবে এবং গোপন পাপ প্রকাশ করবে কিংবা কাফফারা আদায় না করে পারলৌকিক শাস্তি মঞ্জুর করবে। কিন্তু তোমাদের পাপ সম্বন্ধে আল্লাহ বলেছেন, 'যার দ্বারা কোনো খারাপ কাজ হয়ে যায় কিংবা কেউ স্বীয় নফসের উপর জুলুম করে বসে, অতঃপর ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু পাবে।' এরকমভাবেই এক নামায অন্য নামায পর্যন্ত ক্ষমার কারণ হয়ে যায়, আবার এক জুম'আ থেকে অন্য জুম'আ পর্যন্ত কাফফারা হয়ে যায়। জেনে রেখ, যে ব্যক্তি খারাপ কাজের ইচ্ছে করে কিন্তু তা করে না, সেটার পাপ লিখা হয় না। আর যদি করে বসে তবে এটাই পাপ লিখা হয়। আর যদি কোন ভাল কাজের ইচ্ছে করে কিন্তু না করে ফেলে রাখে, তবে ওর জন্যে একটি পুণ্য লিখা হয় এবং যদি করে ফেলে তবে ওর জন্যে দশটি পুণ্য লিখা হয়। আচ্ছা তা হলে বলতো, তোমরা ভাল হলে, না বানী ইসরাঈল ভাল হলো?"

তাৎক্ষণিক নবী কারীম সঃ নিজেই জবাব দিলেন,
"না, না, বানী ইসরাঈল অপেক্ষা তোমাদের উপর বহু সহজ করা হয়েছে। এতো দয়া ও মেহেরবানীর পরেও যদি তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও? তবে, বুঝতে হবে যে, তোমরা নিজে নিজেই ধ্বংস হয়েছো।" সেই সময় নিচের আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

[৩]
"তোমরাও কি তোমাদের রাসূলকে সেরূপ প্রশ্ন করতে চাও, যেরূপ পূর্বে মূসাকে করা হয়েছিল? এবং যে ব্যক্তি বিশ্বাসের পরিবর্তে অবিশ্বাসকে গ্রহণ করে, নিশ্চিতভাবে সে সঠিক পথ হারায়।"
[২:১০৮]

1 টি মন্তব্য: