পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

'এক' বই রিভিউ


বই - এক
লেখক - ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপস
প্রকাশক - সিয়ান পাবলিকেশন
দাম - ৪৫০ টাকা।

ইসলাম ধর্মে আল্লাহ এবং তার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সসালাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। আল্লাহ এবং মুহাম্মদ সাঃ সম্পর্কে যদি আমরা সঠিকভাবে না জানি, তাহলে ইসলামের মৌলিক দুটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসই নড়বড়ে হয়ে যাবে বা ত্রুটিযুক্ত হবে।

আলোচ্য বইটিতে, লেখক আল্লাহ রব্বুল আলামীনের একত্বের প্রতি বিশ্বাস অর্থাৎ তাওহীদ সম্পর্কে কুরানের আয়াত, সহিহ হাদীস, সাহাবী রাঃ এর বুঝ ইত্যাদির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। সাথে সাথে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের মাধ্যমেও তাওহীদের বিষয়টিকে পরিষ্কার করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
যেমন, এ পৃথিবীতে প্রধান যে ধর্ম গুলো আছে ইসলাম ব্যতীত, সে সব ধর্মে রবের যে ধারণা সে ধারণাগুলো তুলে ধরেছেন।
পাশাপাশি মুসলিমদের মধ্যে বা মুসলিম পরিচয়ে যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী আছে, সেই সমস্ত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যে সমস্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেছেন।

অনেকের ধারণা, পৃথিবীতে অনেক ওলী-আউলিয়া অথবা পীর-দরবেশ বা ইমামের মধ্যে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সমস্ত গুণ বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে! অনেকের কাছে ইমাম হিসেবে সমাদৃত খোমেনী বলেন 'নিঃসন্দেহে ইমামের রয়েছে মর্যাদার অবস্থান, সুউচ্চ পদমর্যাদা, সৃষ্টিগত খেলাফত এবং সৃষ্টির প্রতিটি অণু পরমাণুর উপর সার্বভৌম ও প্রভুত্বের ক্ষমতা। যা আল্লাহ'র একত্বের বিশ্বাসের পরিপন্থী!

ইসলামে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অথবা ঈমানের চারটি স্তর রয়েছে। এক নম্বর হলো, আল্লাহ'র অস্তিত্বে বিশ্বাস করা, তারপর রুববীয়াহ বা প্রভুত্বে একত্ব, উলুহিয়াহ বা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ'র একত্ব ও আসমা-ওয়াসসিফাত বা নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আল্লাহ'র একত্ব!

রসূলুল্লাহ সাঃ যখন মক্কায় ইসলাম প্রচার করা শুরু করেন, তখন মক্কার লোকেরা আল্লাহর অস্তিত্ব ও আল্লাহর রুবুবীয়াহ বা রব হিসেবে আল্লাহকে বিশ্বাস করতো! কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সাথে মূর্তিকে শরিক করতো! তাদের বিশ্বাস ছিল এই মূর্তিগুলো তাদের ইবাদত বা দোয়া বা তাদের ফরিয়াদগুলোকে আল্লাহর কাছে পৌঁছে দিবে।

এ পৃথিবীতে মানুষ সবচেয়ে বেশি শিরকে লিপ্ত হয় আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্বের বিষয়ে। আর সে জন্য যুগে যুগে যত নবী ও রাসূল পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন, সকলেই এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ইসলামের দাওয়াত কবুল করেছেন। ইসলামী সংস্কৃতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সাথে সাথে তারা তাদের পূর্বের সামাজিক আচার-আচরণ থেকে কিছু কিছু রীতি পরিত্যাগ করেন নি। তাই ইসলামে প্রবেশ করেছে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার। যেমন যাদু-টোনা, শুভ-অশুভ লক্ষণ বা কুলক্ষণ, ভাগ্য গণনা করা, রাশিচক্রে বিশ্বাস করা, যাদু করা, তাবিজ গ্রহণ করা ইত্যাদি!
এ সমস্ত বিষয় গুলোকে লেখক কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে আলোচনা করেছেন।
এছাড়াও ইসলামে শিরকের প্রবেশ, আল্লাহ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাঃ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা, পীর-আউলিয়ার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত ভক্তি ও পূজা, কবর-মাজার পূজা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন!

বইটির প্রথম দিকে তাওহীদে উলুহিয়াহ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহর আইনের বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমার মনে হয়েছে, এখানে লেখক সংক্ষিপ্ত পরিসরে ব্যাপক বিষয়টি আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সুবিচার করতে পারেন নি।
রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলন বা প্রচেষ্টা প্রাথমিক স্তরের কোন কাজ নয়। ইসলামী দাওয়াতের সর্ব শেষ ধাপ হবে রাষ্ট্রে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা! ইসলাম প্রতিষ্ঠা সর্বপ্রথম নিজের ওপরে, নিজের আয়ত্তাধীন পরিবারে, এরপর আত্মীয়-স্বজন, সমাজ - এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে, যার প্রতিচ্ছবি আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর জীবনীতে পাই।

বইটি পাঠে, আল্লাহ'র পরিচয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ইসলামী সমাজে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন কুসংস্কার ও সেগুলো সম্পর্কে ইসলামের কী শিক্ষা, সে বিষয়ে জানা যাবে 'ইন শা আল্লাহ'!
হ্যাপ্পি রীডিং!

কোন মন্তব্য নেই