Ticker

6/recent/ticker-posts

Advertisement

মহামারীকে 'আল্লাহর প্রতিশোধ' আখ্যা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন



ড. ইয়াদ আল কুনাইবী (হাফিঃ)


সম্মানিত ভাইয়েরা! আমি এখন যে কথাগুলো বলবো আশাকরি কিছুক্ষণ পরেই আপনারা এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন।


আমাদের উচিৎ মহামারীকে আল্লাহ প্রদত্ত প্রতীক্ষিত সেই প্রতিশোধ বলা থেকে বিরত থাকা যা জালেমদের লাঞ্চিত করবে। এই বক্তব্যের কারণে মানুষের অন্তরে এই ধারণার সৃষ্টি হবে যে, অবশেষে আল্লাহ তায়ালা জালেমদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা করেছেন যারা শেষসীমায় পৌছে গিয়েছিল।


আপনার এটাও ভেবে রাখা উচিৎ, যখন মহামারী সেই বিশ্বব্যবস্থা থেকে দূরীভূত হবে যা মহামারীকেই ব্যবহার করতে শিখেছে তখন ফলাফল কেমন দাড়াবে। তখন সেটি তার দখল আরও মজবুত করে মানুষদের উপর আগের চেয়ে বেশী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। আর সাধারণ মানুষের উপর তাদের অত্যাচার আরও বৃদ্ধি পাবে।


যারা বলতো আল্লাহ আমাদের পক্ষে প্রতিশোধ নিচ্ছেন তারাই তখন মনে মনে বলবে: আল্লাহর শাস্তি কি এমনই? আল্লাহ কোথায়?

কারণ তারা অপেক্ষা করছিলো যে আল্লাহ যেন যালিমদের ধ্বংস করে দিয়ে মাযলুমদের একটু স্বস্তি দেন।


মহামারী পরবর্তী সময়ে আপনি ধর্মত্যাগের এমন একটি স্রোত দেখতে পাবেন যারা কিনা একসময় তাদের ধর্ম, রীতি ও আল্লাহর এবাদতকে ভুলভাবে বুঝে আস্থাশীল হয়ে পড়েছিল।


তারা এভাবে বলতো যে, আল্লাহ আমাদের পক্ষে হয়ে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছেন। এখন আমরা ফলাফলের অপেক্ষা করছি। তোমরা উভয়ে লড় আর আমরা বসে বসে দেখি। আমরা নিজেদের সংশোধন করবোনা, নিজেদের কাজ চালিয়ে যাবনা। তাছাড়া আমরা আশাবাদী, আমরা আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখি।


যদি তারা ভালো ধারণা রাখতো তাহলে ভালো কাজও করতো। যদি আল্লাহ তাদের এই ধারণাকে বাস্তবায়ন না করেন তাহলে তারা আল্লাহকেই অস্বীকার করে বসে। তাদের মানসিকতা আর সে সমস্ত লোকের মানসিকতা প্রায় এক যারা আরব বিদ্রোহের সময় যখন আল্লাহ আমাদের বিজয় দেননি তখন নাস্তিক হয়ে গিয়েছিল। অথচ শুরু থেকেই আমরা এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিয়ে এসেছিলাম এবং আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি হওয়া থেকে সতর্ক করছিলাম।


আমরা তাদের বলে আসছিলাম:

﴾তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই যদি কুফরী কর তবুও আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত।﴿

আমরা আরও বলেছিলাম:

﴾অতএব যে কুফরী করবে তার কুফরী তার উপরই বর্তাবে। কাফেরদের কুফর কেবল তাদের পালনকর্তার ক্রোধই বৃদ্ধি করে আর কেবল তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।﴿


মহামারী আল্লাহ প্রদত্ত প্রতীক্ষিত আযাব বলে মানুষের অন্তরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া থেকে আমি নেতৃপর্যায়ের সকলকে সতর্ক করছি।


হ্যাঁ এটা ঠিক যে, এ সমস্ত মহামারীতে মানুষের দুর্বলতা প্রকাশ পায় আর আল্লাহর কুদরতের বিচ্ছুরণ ঘটে। আর এটি একটি সুযোগ মাত্র। যে সুযোগ হয়তো মুসলিমগণ কাজে লাগাবেন নয়তো তাদের শত্রু ও মানবতার শত্রুগণ কাজে লাগাবে। যেভাবে আগে বলেছিলাম।


অতএব, যে ব্যক্তি ভালোকাজ করা অবস্থায় মহামারীতে মৃত্যু বরণ করবে তার জন্যে থাকবে রহমত ও ক্ষমা। আর যে জুলুম ও কুফুরী অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে এটি তার জন্যে বড় আযাব আসার আগে ছোট আযাব স্বরূপ হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আল্লাহ সমস্ত জালেমদের দুনিয়ায় একসাথে শাস্তি দিয়ে দিবেন। জালেম যদি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশী অবাধ্য ও ক্ষমতাধর হয় তাহলে এই দুনিয়া হবে তার বিপদের জায়গা।


﴾জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে।﴿


সমাজ ও জাতির উত্থানের এমন কিছু নিয়ম আছে যার কখনো ব্যত্যয় ঘটেনা। জাতি তার আপন স্থানে উপনীত হওয়ারও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন আছে।


এটি একটি সুযোগ। আমাদের কখনো এজন্যে বসে থাকা উচিত হবেনা যে, আল্লাহ নিজেই এসে এই যুদ্ধে আমাদের বিজয়ী করবেন। আর বিজয়ের মুকুট আমাদের এমনিতেই দিয়ে দিবেন। এটি এমন একটি নিয়ম যার ব্যাপারে কোন পক্ষপাতিত্ব করা হয়না। আল্লাহ কখনো এই উম্মতে মোহাম্মদিকে তীব্রধ্বনি, ভূমিকম্প ও আবাবিল পাখির সাহায্যে বিজয়ী করতে চাননা। বরঞ্চ এর জন্যে তিনি আমাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত একটি নিয়ম বাতলে দিয়েছেন। তা হলো, মুসলিমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

﴾আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান।﴿


আমরা আল্লাহর নিকট রাসুল ও সাহাবাদের চেয়ে অধিক প্রিয় নই। তারা প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে বলে দিয়েছেন যে, জালিমের হাত থেকে বাঁচতে চাইলে তোমাদের অবশ্যই লড়তে হবে।

﴾যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হাতেই তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন আর মুসলমানদের অন্তরকে শান্ত করবেন।﴿


আমরা আমাদের প্রস্তুতি ও সাধ্যমত চেষ্টা চালানোর পর আল্লাহর কাছে বরকত চাইলে তবেই আমরা সুসংবাদ পাব। শুধুমাত্র বসে বসে কামনা করলে এমনটা হবেনা। অথচ আমরা সাধ্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবার পরিজনের ক্ষেত্রেও অবহেলা করছি আর বলছি যে,

-আমাদের করার মত তো কিছু নেই।

-নাহ! অনেক কিছুই করার আছে। বরঞ্চ আমরা এসবে ঢিল দিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আর আমাদের অন্তর এটিকেই উপভোগ করে। নিয়মেরই এক আকস্মিক অংশকে আমরা নিজেদের কল্যাণে ব্যবহার করতে তৎপর হয়ে উঠি।

﴾আর আপনি আল্লাহর রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না।﴿


এই কথাগুলোকে নিজেদের স্মৃতি ও মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন। যদি আপনাদের অন্তরে কিংবা মানুষদের পক্ষ থেকে এই প্রশ্ন আসে যে, কেন আল্লাহ আমাদের সাহায্য করছেননা? আল্লাহর শাস্তি/প্রতিশোধ কি এমনই হয়? আমরা দূর্বল হতেই আছি অথচ জালেমদের শক্তি দিনে দিনে বাড়ছে!


তখন তাদেরকে জবাব দিন:

﴾বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের নিকট পৌছেছে তোমাদেরই কারণে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।﴿


আল্লাহ যেন আমাদেরকে নিজেদের সংশোধন করার তাওফিক দান করেন যাতে আমরা তার প্রদত্ত বিজয়ের যোগ্য হতে পারি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য