জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনার জন্য দুআ


ফিরআ’উনের স্ত্রী আসিয়া বিনতু মাযাহিম রাদিয়াল্লাহু তাআ'লা আ'নহা অত্যন্ত পুণ্যবতী এবং সতী-সাধ্বী নারী ছিলেন। তিনি মূসা আ'লাইহিস সালামের দাওয়াত কবুল করে আল্লাহ রব্বুল আ'লামীনের উপর ঈমান এনেছিলেন। এ কারণে ফিরআ’উন তাঁর উপর সর্বপ্রকারের নির্যাতন করতো। কঠিন গরমের সময় তাকে রৌদ্রে দাঁড় করিয়ে দিতো। কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহ ফেরেশতাদের দ্বারা তাঁকে ছায়া দান করতেন এবং তাঁকে গরমের কষ্ট হতে রক্ষা করতেন। এমন কি তিনি তাঁকে তাঁর জান্নাতী ঘর দেখিয়ে দিতেন। ফলে তাঁর রূহ তাযা হয়ে উঠতো এবং তাঁর ঈমান বৃদ্ধি পেতো। আসিয়া ফিরাউন এবং মূসা আ'লাইহিস সালামের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকতেন যে, কে জয়লাভ করলো? সব সময় তিনি শুনতে পেতেন যে, মূসা আ'লাইহিস সালাম জয়লাভ করেছেন। তখন সেটাই তাঁর ঈমান আনয়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি ঘোষণা করেন, ‘‘আমি মূসা আ‘লাইহিস সালাম এবং হারূন আ'লাইহিস সালামের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।”

ফিরআউন এই খবর জানতে পেরে তার লোকজনকে বললো, তোমরা সবচেয়ে বড় পাথর খোঁজ করে নিয়ে আসো। অতঃপর তাঁকে চিত করে শুইয়ে দাও এবং তাঁকে বলো, “তুমি তোমার এই বিশ্বাস হতে বিরত থাকো। যদি বিরত থাক তাহলে ভালো কথা, সে আমার স্ত্রী। তাকে মর্যাদা সহকারে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। আর যদি না মানে তাহলে ঐ পাথর তার উপর নিক্ষেপ করবে এবং তার মাংস টুকরো টুকরো করে ফেলবে।"

অতঃপর ফিরআউনের লোকেরা পাথর নিয়ে আসলো এবং আসিয়াকে নিয়ে গেল ও চিৎ করে শুইয়ে দিলো এবং তাঁর উপর ঐ পাথর নিক্ষেপ করার জন্যে উঠালো।

আসিয়া বিনতু মাযাহিম রাদিয়াল্লাহু তাআ'লা আ'নহা তাঁর শাহাদাতের পূর্বে এই দুআ করেছিলেন,


رَبِّ ابۡنِ لِیۡ عِنۡدَکَ بَیۡتًا فِی الۡجَنَّۃِ

‘‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার জন্য তোমার নিকট জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও...।’’

উচ্চারণঃ রব্বিবনি লি ঈ’নদাকা বাইতাং ফিল-জান্নাহ....। সূরা আত-তাহরীমঃ ১১।


ঐ সময় তিনি আকাশের দিকে তার চক্ষু উঠালেন। মহান আল্লাহ আকাশের পর্দা সরিয়ে দিলেন এবং তিনি জান্নাত এবং সেখানে তাঁর জন্যে যে ঘর তৈরী করা হয়েছে তা স্বচক্ষে দেখে নিলেন। এতেই তাঁর রূহ বেরিয়ে পড়লো। যখন পাথর তার উপর নিক্ষেপ করা হয় তখন তার মধ্যে রূহ ছিলই না।

উৎসঃ তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা আত-তাহরীমের ১১-নং আয়াতের তাফসীর।

Post a Comment

Previous Post Next Post